বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ‘ভূতুড়ে ভোটার’ ইস্যুতে বিগত কয়েকদিন ধরেই সরগরম রাজ্য রাজনীতি। বাংলার গণ্ডি পেরিয়ে সেই আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে জাতীয় রাজনীতিতেও। অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগের ধারা অব্যাহত। এই আবহে এবার বড় ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। সেটিকে আদতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নৈতিক জয় হিসেবেই দেখছে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)।
বড় ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)!
একই এপিক নম্বরে রয়েছে একাধিক নাম! পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বপ্রথম এই অভিযোগ সামনে আনেন। এবার এই এপিক নম্বর বিতর্কে কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। ঘোষণা করা হল, আগামী দিনে একই এপিক নম্বর আর থাকবে না। বরং এর পরিবর্তে ইউনিক এপিক নম্বর চালু করা হবে। আগামী ৩ মাসের মধ্যে প্রাথমিক কাজ শুরু করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) ঘোষণা, ‘ডুপ্লিকেট’ এপিক নম্বরের যে সমস্যা রয়েছে, সেটা সমাধান করা হবে। এবার ‘ডুপ্লিকেট’ এপিক নম্বরের ভোটারদের কমিশনের তরফ থেকে ইউনিক এপিক নম্বর দেওয়া হবে। আগামী দিনে প্রত্যেক ভোটারের জন্য ইউনিক এপিক নম্বর পদ্ধতি শুরু করা হবে।
আরও পড়ুনঃ Breaking: পিছিয়ে গেল দলের সর্বস্তরের নেতৃত্বের সঙ্গে অভিষেকের বৈঠক! হঠাৎ কী হল? শোরগোল রাজ্যে
এদিকে সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের ভোটার লিস্টে বাইরের রাজ্যের ভোটারদের নাম ঢুকিয়ে দেওয়ার অভিযোগে সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একযোগে নির্বাচন কমিশন (ECI) এবং বিজেপিকে আক্রমণ শানান তিনি। তৃণমূলনেত্রী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের আশীর্বাদ নিয়ে মহারাষ্ট্র, দিল্লির মতো বাংলাতেও ফিল্ড সার্ভে না করে এআরও-র সাহায্যে অপারেটরদের কাজে লাগিয়ে অনলাইনে ভূতুড়ে ভোটারদের নাম তোলা হচ্ছে। বাংলার ভোটারের একই এপিক কার্ডে গুজরাট, হরিয়ানার লোকের নাম তুলছে’। এরপর এই নিয়ে ময়দানে নামে তৃণমূল।
পাল্টা নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) তরফ থেকে জানানো হয়, একই এপিক নম্বরে একাধিক নম্বর নাম রয়েছে মানেই ভুয়ো ভোটার নয়। এপিক নম্বর এক হলেও বিধানসভা কেন্দ্র ও ভোটকেন্দ্র ভিন্ন হয়। এপিক কার্ডে যে কেন্দ্রের ভোটার লিস্টে নাম আছে, সেখানেই ভোট দেওয়া যাবে। অন্য কোথাও দেওয়া যাবে না বলে জানিয়েছিলেন কমিশন। যদিও এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট ছিল না রাজ্যের শাসকদল। পাল্টা তৃণমূলের তরফ থেকে দাবি করা হয়, কমিশনের তরফ থেকে একই এপিক নম্বরে একাধিক ভোটারের যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, সেটা কমিশনেরই নিয়ম বহির্ভূত ও অবৈধ।
এই আবহে এবার নয়া বিজ্ঞপ্তি জারি করল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। এই বিষয়টিকে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নৈতিক জয় হিসেবে দেখছে রাজ্যের শাসকদল। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের আন্দোলনের নৈতিক জয়। সেই জন্য নির্বাচন কমিশন এই কথা বলতে বাধ্য হল। দিল্লি ও মহারাষ্ট্রে যা করেছে, সেই চক্রান্ত ফাঁস হয়ে গিয়েছে’। বিজেপির তরফ থেকেও কমিশনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানানো হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের দাবি, কমিশন এই অবস্থানের কথা আগেই ঘোষণা করেছিল। নয়া বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিষয়টি আরও পরিষ্কার করল।