Durga Puja 2026 Live Updates

পাকিস্তানকে সঙ্গে নিয়ে চার দেশের নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি! নজর রাখছে ভারত

Published on:

Published on:

A new four-nation defence pact has been signed, with Pakistan included!
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: মক্কা চুক্তির পর এবার ‘বদর’ (Badr Pact)! পাকিস্তানকে (Pakistan) সঙ্গে নিয়ে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নতুন সমঝোতায় সই করল আরও তিন দেশ। কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান এবং ইন্দোনেশিয়া—এই চার দেশ বুধবার, ২১ অক্টোবর, কাতারের (Qatar) রাজধানী দোহায় ‘বদর’ নামে একটি প্রতিরক্ষা সমঝোতা স্মারকে সই করেছে। সামরিক অস্ত্র উৎপাদন, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং গবেষণার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোই এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য। এর ফলে পশ্চিম এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক সহযোগিতা আরও গভীর হওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় বিষয়টির দিকে নজর রাখছে ভারতও। তবে এই সমঝোতাকে এখনই ভারতবিরোধী সামরিক জোট হিসেবে দেখার মতো কোনও তথ্য সামনে আসেনি।

পাকিস্তানকে (Pakistan) সঙ্গে নিয়ে সই হল চার দেশের নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি!

তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, চার দেশের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য। প্রতিটি দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নিজস্ব দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে যৌথভাবে সামরিক সরঞ্জাম তৈরি এবং উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে চায় দেশগুলি। পাশাপাশি সামরিক প্রশিক্ষণ ও গবেষণার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ, শুধু একে অপরের কাছ থেকে অস্ত্র কেনাবেচার মধ্যেই এই সম্পর্ক সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং অস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি, উৎপাদন পদ্ধতি এবং প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত গবেষণাতেও পারস্পরিক সহযোগিতার পথ খুলতে পারে। ভবিষ্যতে এই উদ্যোগের মাধ্যমে চার দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে (Pakistan)।

আরও পড়ুন: দেশবিরোধী খবরে নিয়ন্ত্রণ! AI ব্যবহারেও হতে হবে সতর্ক, TV চ্যানেলগুলির উদ্দেশ্যে কী নির্দেশিকা কেন্দ্রের?

দোহায় চুক্তি স্বাক্ষরের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ, তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলের, কাতারের উপ প্রধানমন্ত্রী তথা প্রতিরক্ষা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ সৌদ বিন আবদুর রহমান এবং ইন্দোনেশিয়ার উপ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইউসুফ জৌহারি। চার দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তাঁদের উপস্থিতিতে স্পষ্ট, এই সমঝোতায় শুধু সামরিক স্তরের যোগাযোগ নয়, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত শিল্পক্ষেত্রগুলির অংশগ্রহণকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যদিও চুক্তির আওতায় ঠিক কোন কোন যৌথ প্রকল্প নেওয়া হবে, কতটা প্রযুক্তি আদানপ্রদান হবে এবং উৎপাদনের কাজ কীভাবে এগোবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি। ফলে এই সমঝোতার বাস্তব প্রভাব বুঝতে আগামী দিনে চার দেশের পদক্ষেপের দিকে নজর রাখতে হবে।

এর আগে গত ৭ অগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় পাকিস্তান, তুরস্ক এবং সৌদি আরবের মধ্যে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই চুক্তির মূল কথা ছিল, তিন দেশের কোনও একটির উপর সশস্ত্র হামলা হলে তা তিন দেশের উপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে। অর্থাৎ, সম্ভাব্য সামরিক আক্রমণের মোকাবিলায় একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার ছিল মক্কা চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। কিন্তু নতুন ‘বদর’ সমঝোতার চরিত্র আলাদা। প্রকাশ্যে আসা তথ্য অনুযায়ী, এখানে কোনও একটি দেশের উপর হামলা হলে অন্য দেশগুলিকে যুদ্ধে যোগ দিতে হবে, এমন কোনও শর্তের কথা জানানো হয়নি। বরং অস্ত্র উৎপাদন, প্রযুক্তির উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং গবেষণার উপরই জোর দেওয়া হয়েছে। তাই দুটি চুক্তিকে একই ধরনের উদ্যোগ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

A new four-nation defence pact has been signed, with Pakistan included!

আরও পড়ুন: অশান্তির আগুনে জ্বলছে ফ্রান্স! প্রবাসী ভারতীয়দের সতর্ক করে নির্দেশিকা জারি দিল্লির

তবে নতুন এই সমঝোতার ফলে পাকিস্তানের (Pakistan) প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, তা ভারতের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষত তুরস্কের সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক সহযোগিতা বাড়লে ভবিষ্যতে প্রযুক্তি ও অস্ত্র উৎপাদনের ক্ষেত্রে ইসলামাবাদ নতুন সুযোগ পেতে পারে। অন্যদিকে, কাতারের আর্থিক সামর্থ্য এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রযুক্তিগত ও উৎপাদন সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা এই উদ্যোগে কতটা ভূমিকা নেয়, সেটিও দেখার বিষয়। তবে চুক্তিতে ভারতের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপের উল্লেখ নেই। তাই এখনই এর প্রভাব নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ নেই। আগামী দিনে যৌথ প্রতিরক্ষা প্রকল্প কতটা বাস্তবায়িত হয়, প্রযুক্তি ভাগ করে নেওয়ার পরিধি কতটা বাড়ে এবং চার দেশের সামরিক শিল্পের সহযোগিতা কোন পথে এগোয়, তার উপরই নির্ভর করবে ‘বদর’ সমঝোতার প্রকৃত তাৎপর্য।