বাংলাহান্ট ডেস্ক: আমেরিকার মিশিগান অঙ্গরাজ্যের হ্যামট্রমিক সিটিতে একটি রাস্তার নাম বদলে ‘খালেদা জিয়া (Khaleda Zia) স্ট্রিট’ রাখার সিদ্ধান্ত স্থানীয় ও জাতীয় স্তরে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। শহরের কারপেন্টার স্ট্রিটের এই নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব সম্প্রতি স্থানীয় সিটি কাউন্সিলে পাস হয়েছে, যেখানে চারজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাউন্সিলর সক্রিয় ছিলেন। হ্যামট্রমিক সিটি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি অভিবাসী, বিশেষত মুসলিম সম্প্রদায়ের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত।
আমেরিকায় খালেদা জিয়ার (Khaleda Zia) নামে রাস্তার নামকরণ:
এই নামকরণের সমর্থকরা যুক্তি দেখান যে, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের নামে রাস্তার নামকরণের নজির রয়েছে। তাদের মতে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের নেত্রী খালেদা জিয়াকে সম্মান জানানোই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। তারা এটিকে স্থানীয় বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রকাশ এবং সদ্য প্রয়াত এই নেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য বলে বর্ণনা করেন।
আরও পড়ুন:‘৭২ ঘন্টার মধ্যে….’, ডেডলাইন বেঁধে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে মানহানির নোটিস শুভেন্দুর
তবে এই সিদ্ধান্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, বিশেষ করে ট্রাম্পপন্থী ও ডানপন্থী মহলে ব্যাপক বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছে। ‘মাগা’ (মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন) সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, এই ধরনের নামকরণ আমেরিকার মূল পরিচয় ও সংস্কৃতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন ও অভিবাসন নীতির একটি উদাহরণ, যা তারা বিরোধিতা করেন।
বিরোধীদের একটি অংশ আরও চরম অবস্থান নিয়ে অভিবাসন-বিরোধী বক্তব্য তুলেছেন, যা চলমান অভিবাসন বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে। তারা দাবি করেন, স্থানীয় প্রশাসনকে ‘আমেরিকান স্বার্থ’কে প্রাধান্য দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল। এই বিতর্ক দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ‘সংস্কৃতি যুদ্ধের’ একটি নতুন প্রান্ত হিসেবে দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন:হাত দিলেই ছ্যাঁকা! বিয়ের মরশুমের আগে আগুন ছোঁয়া সোনার দাম, জানুন আজকের লেটেস্ট প্রাইস
খালেদা জিয়া গত ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন এবং শারীরিক ভোগান্তি আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল। তাঁর প্রয়াণের পরিপ্রেক্ষিতে এই নামকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন-বিরোধী ও অভিবাসন-সমর্থক গোষ্ঠীর মধ্যকার গভীর রাজনৈতিক বিভাজনকেই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। হ্যামট্রমিক সিটির এই ঘটনা এখন স্থানীয় ইস্যু ছাড়িয়ে জাতীয় বিতর্কের রূপ নিয়েছে।












