কমবে চিনের দাদাগিরি! এবার এখানে আগ্নেয়গিরির নিচে মিলল “সাদা সোনা”-র ভান্ডার, রয়েছে এই ভয়ও

Published On:

বাংলা হান্ট ডেস্ক: সোনার (Gold) মতো মূল্যবান ধাতু সম্পর্কে তো আমরা সকলেই জানি। কিন্তু, বর্তমান সময়ে দিন যত এগোচ্ছে ততই চাহিদা এবং কদর বৃদ্ধি পাচ্ছে “সাদা সোনার”। মূলত, এটি এমন একটি গুপ্তধন যে সারা বিশ্ব এটির পিছনে ছুটছে। পাশাপাশি, বড় বড় কোম্পানিগুলিও এর জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করতে প্রস্তুত। এমতাবস্থায়, এই প্রতিবেদনে আজ আমরা আপনাদের এমন একটি স্থান সম্পর্কে জানাতে চলেছি যেখানে আগ্নেয়গিরির নিচে “সাদা সোনা” অর্থাৎ লিথিয়ামের (Lithium) ভান্ডার পাওয়া গেছে। পাশাপাশি, এই পরিমাণ এতটাই বেশি যে এবার চিনের ঔদ্ধত্যের অবসানও ঘটাতে পারে। কিন্তু রয়েছে কেবল একটি ভয়!

এই প্রসঙ্গে বিজনেস ইনসাইডারের রিপোর্ট অনুযায়ী জানা গিয়েছে, ওই স্থানটি রয়েছে আমেরিকায়। সেখানে ম্যাকডার্মিট ক্যালডেরা নামে একটি প্রাচীন আগ্নেয়গিরি রয়েছে। “সাদা সোনা” অর্থাৎ লিথিয়ামের ভান্ডার সেই আগ্নেয়গিরির ভেতরেই পাওয়া গেছে। এই জায়গাটি এতদিন পর্যন্ত বিশ্বের কাছে অজানা ছিল। কিন্তু যখনই জানা গিয়েছে যে, সেখানে প্রচুর পরিমাণে লিথিয়াম পাওয়া গেছে তারপর থেকেই সমগ্ৰ বিশ্বের কাছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ওই স্থান। শুধু তাই নয়, এটিকে শতাব্দীর সবথেকে বড় খনি হিসেবেও বিবেচিত করা হচ্ছে। সেখানে এত বেশি লিথিয়াম মজুত রয়েছে যে, সেটি বছরের পর বছর ধরে বিশ্বের অর্ধেক চাহিদা পূরণ করতে পারে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, এই আগ্নেয়গিরির শেষ অগ্ন্যুৎপাত হয়েছিল ১৬ মিলিয়ন বছর আগে।

a treasure of "white gold" was found under the volcano

জানিয়ে রাখি যে, বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন থেকে শুরু করে ল্যাপটপ পর্যন্ত সবকিছুর জন্যই রিচার্জেবল ব্যাটারি তৈরি করতে লিথিয়াম ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি, যখন থেকে এটি বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি তৈরিতে ব্যবহার করা শুরু হয়েছে, তখন থেকে এর চাহিদা আরও বেড়েছে। কোম্পানিগুলির কাছে তাই এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তাই, কোথাও লিথিয়ামের ভান্ডারের সন্ধান মিললে সকলেই সেদিকে আকৃষ্ট হন।

আরও পড়ুন: হতে চেয়েছিলেন নায়িকা, কিন্তু হলেন IPS অফিসার! অপরাধীরা যমের মত ভয় পায় এই “লেডি সিংঘম”-কে

২০২০ সালে আমেরিকান বিজ্ঞানীরা ম্যাকডার্মিট ক্যালডেরা আগ্নেয়গিরিতে লিথিয়াম আবিষ্কার করেছিলেন। তাঁরা এটাও জানান যে, সেখানে সবথেকে বেশি পরিমাণে লিথিয়াম থাকতে পারে। কিন্তু একটা অসুবিধাও রয়েছে। কারণ এই লিথিয়ামটি ইলাইট নামক একটি আলাদা ধরণের মাটির মধ্যে রয়েছে। তাই সেখান থেকে লিথিয়াম বের করে আনা কিছুটা কঠিন।

আরও পড়ুন: বিমানবন্দরে অবতরণের সময়ে পিছলে গিয়ে ভেঙে পড়ল বিমান, প্রকাশ্যে শিউরে ওঠার মতো ভিডিও

স্থানীয় মানুষের তীব্র বিরোধিতা: এদিকে, নতুন গবেষণা অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, ম্যাকডার্মিট ক্যালডেরার দক্ষিণ অংশ, যাকে থ্যাকার পাস বলা হয়, সেখানে ১৩২ মিলিয়ন টনেরও বেশি লিথিয়াম থাকতে পারে। যা কয়েক দশক ধরে লিথিয়ামের বিশ্বব্যাপী চাহিদা মেটানোর পক্ষে যথেষ্ট। কিন্তু, রয়েছে একটি বড় সমস্যাও। সেখানকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, যে জায়গাটিতে এই গুপ্তধন পাওয়া গেছে সেটি তাঁদের পবিত্র ভূমি। এমতাবস্থায়, তাঁরা সেটিকে হারিয়ে যেতে দেবেন না। বাসিন্দদের বিশ্বাস অনুযায়ী, তাঁদের এলাকা বিপদে পড়েছে এবং তাঁদের অস্তিত্বও সঙ্কটের মুখে রয়েছে। আর সেই কারণেই তাঁরা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।

Sayak Panda

সায়ক পন্ডা, মেদিনীপুর কলেজ (অটোনমাস) থেকে মাস কমিউনিকেশন এবং সাংবাদিকতার পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কোর্স করার পর শুরু নিয়মিত লেখালেখি। ২ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলা হান্ট-এর কনটেন্ট রাইটার হিসেবে নিযুক্ত।

সম্পর্কিত খবর

X