‘ঘুষ দিয়ে চাকরি পেয়ে থাকলে ইস্তফা দিন, নাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেব’, হুঁশিয়ারি বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ‘যারা যারা ঘুষ দিয়ে চাকরি পেয়েছেন, তারা ইস্তফা দিন। নাহলে আদালত কঠোর ব্যবস্থা নেবে’, নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় এদিন ফের একবার কড়া বার্তা দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Abhijit Ganguly)। এসএসসি (SSC) সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় ফরেন্সিক রিপোর্ট পাওয়া মাত্রই এহেন মন্তব্য করেন অভিজিৎবাবু।

   

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে স্কুল সার্ভিস কমিশন সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসে চলেছে। সম্প্রতি, এই মামলায় গ্রেফতার হন প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর ঘনিষ্ঠ অভিনেত্রী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাট থেকে কোটি কোটি নগদ অর্থ এবং সোনা গয়না উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। শুধু তাই নয়, একইসঙ্গে আরো একাধিক ক্ষেত্রে দুর্নীতির চিত্র সামনে উঠে এসেছে।

এই মামলায় এদিন আদালতের নিকট ফরেন্সিক রিপোর্ট জমা দেয় সিবিআই আর তা দেখে হতভম্ব হয়ে পড়েন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। পরবর্তীতে তিনি জানান, “যারা ঘুষ দিয়ে চাকরি পেয়েছে, তারা ইস্তফা না দিলে আদালত কঠোর ব্যবস্থা নেবে।”

এদিন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “যারা বেআইনিভাবে চাকরি পেয়েছে, তারা সকলেই চাকরি খোয়াতে চলেছে। আগামী ৭ ই নভেম্বরের মধ্যে নিজেদের চাকরি থেকে ইস্তফা দিন। আর যদি তা না হয়, তবে আদালত সেই সকল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। তারা আগামীতে যাতে অন্য কোন সরকারি চাকরি না পায়, তার ব্যবস্থা করা হবে। তাই সময় থাকতে পদত্যাগ করে নিন।”

সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক অভূতপূর্ব রায়ের জন্য ইতিমধ্যেই সকলের নজরে এসেছেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এক্ষেত্রে মন্ত্রীকন্যা অঙ্কিতা অধিকারীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার পাশাপাশি অন্যান্য একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নেন অভিজিৎবাবু। আবার অপরদিকে বহু চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগের নির্দেশ পর্যন্ত দেন তিনি।

School Service Commision,Calcutta High Court,abhijit ganguly,cbi,west bengal

সেই ধারা বজায় রেখে এদিন অযোগ্যদের উদ্দেশ্যে কঠোর বার্তা শোনালেন বিচারপতি। উল্লেখ্য, এদিন সিবিআইয়ের পেশ করার রিপোর্ট অনুযায়ী, গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি-তে নম্বর বদল করা হয়েছে যথাক্রমে ৩৪৮১ এবং ২৮২৩ জনের। একইসঙ্গে একাদশ-দ্বাদশ এবং নবম-দশমে সেই সংখ্যা হতবাক করে তুলেছে আদালতকে। রিপোর্ট অনুযায়ী, এক্ষেত্রে মোট ১৮৫৮ জনের নম্বর পরিবর্তন করা হয়েছে।