জল গড়িয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে, সেই সোনালির ঘরে সদ্যোজাত, নাম রাখলেন খোদ অভিষেক

Updated on:

Updated on:

Abhishek Banerjee meets Sonali Khatun after pushback ordeal
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় বাংলাদেশে পুশব্যাক, মাসের পর মাস জেল ও নির্যাতনের যন্ত্রণা পেরিয়ে আইনি লড়াইয়ে দেশে ফেরা সোনালি খাতুনের সঙ্গে দেখা করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। বীরভূমে সদ্যোজাত পুত্রসন্তানের জন্মের পর মঙ্গলবার সোনালির খোঁজ নিতে যান তিনি।

বীরভূমে গিয়ে সোনালী খাতুনের সাথে দেখা করেন অভিষেক (Abhishek Banerjee)

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) মঙ্গলবার বীরভূমে গিয়ে সোনালি খাতুনের সঙ্গে দেখা করেন। সোনালি সম্প্রতি পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। সাংবাদিকদের অভিষেক জানান, সোনালির সঙ্গে তাঁর আগে দেখা করার কথা থাকলেও শারীরিক সমস্যার কারণে সেই সাক্ষাৎ হয়নি। সেই কারণেই নিজে গিয়েই সোনালীর সঙ্গে দেখা করেন অভিষেক।

অভিষেক (Abhishek Banerjee) বলেন, সোনালি পরশুদিন হাসপাতালে ভর্তি হন এবং গতকাল সে পুত্রসন্তানের জন্ম দেয়। সোনালি যে অভিজ্ঞতার কথা তাঁকে বলেছেন, তা অত্যন্ত বিরক্তিকর। কীভাবে দিল্লি পুলিশ তাঁদের হয়রানি করেছে, কীভাবে বিএসএফ তাঁদের পুশব্যাক করে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে এবং কীভাবে এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়েছে, সবটাই তিনি তুলে ধরেন।

অভিষেকের (Abhishek Banerjee) অভিযোগ, সোনালিকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। রাতের পর রাত তাঁকে জঙ্গলে কাটাতে হয়েছে। পরে বাংলাদেশ পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে এবং সেখানে কয়েক মাস জেল খাটতে হয়। সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের নির্দেশে শেষ পর্যন্ত তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। তবে অভিষেকের দাবি, এই পুরো প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় সরকার কোনও তৎপরতা দেখায়নি। চাপের মুখে সোনালি দেশে ফিরলেও তাঁর স্বামী এখনও বাংলাদেশেই রয়েছেন।

গত ৭-৮ মাস ধরে সোনালি যে যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন, তা কল্পনাও করা কঠিন বলে মন্তব্য করেন অভিষেক (Abhishek Banerjee)। বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় যে নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে, তার জন্য তিনি বিজেপিকেই দায়ী করেন। অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, বাংলা ভাষায় কথা বলা কি অপরাধ? ২০০২ সালে সোনালির বাবা-মায়ের নাম ভোটার তালিকায় থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তাঁকে জোর করে বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে পাঠানো হল, তার কোনও বৈধ ব্যাখ্যা দিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। প্রতিবার মামলাটি আদালতে গেলে তা প্রশাসনের জন্য ‘গালে চপেটাঘাতের’ মতো হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শিশুর সংক্রমণের সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত সমস্ত প্রোটোকল মেনে তিনি সদ্যোজাতের কাছে যাননি বলেও জানান অভিষেক (Abhishek Banerjee)। সোনালি ও তাঁর মা শিশুটির নাম রাখার অনুরোধ করলে তিনি প্রথমে আপত্তি করেছিলেন। তবে তাঁদের অনুরোধে শিশুটির নাম রাখেন ‘আপন’। অভিষেক জানান, তাঁদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার স্মৃতিকে মাথায় রেখেই এই নাম রাখা হয়েছে। অভিষেক আরও বলেন, কয়েক মাস পরে আবার তাঁদের বাড়িতে যাবেন তিনি। একইসঙ্গে জানান, মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে দানিশের মামলাও ছিল। সেখানে কেন্দ্রীয় সরকার আবার সময় চেয়েছে, কারণ তাদের বলার মতো কিছু নেই। দানিশকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য যা সম্ভব, সবকিছুই করা হবে বলে আশ্বাস দেন অভিষেক।

এদিন বিজেপিকে আক্রমণ করে অভিষেক (Abhishek Banerjee) বলেন, দাঙ্গার মাধ্যমে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। আজও SIR-এর মাধ্যমে অমর্ত্য সেনের মতো মানুষকে নোটিস পাঠানো হচ্ছে। কেন্দ্র সরকারের বিরোধিতা করার কারণেই কি তাঁকে টার্গেট করা হচ্ছে, এই প্রশ্ন তোলেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলনের কথা তুলে ধরে অভিষেক বলেন, মানুষের জন্য কাজ করেই তিনি তিনবার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। বিজেপি কি একজন মায়ের চোখের জলের মূল্য বোঝে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

Abhishek Banerjee Steps In to Resolve TMC MPs Rift

আরও পড়ুনঃ পেনশন-গ্র্যাচুয়িটির নিয়মে বিরাট পরিবর্তন আনছে রাজ্য, লাভ হবে না ক্ষতি? ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা

শুভেন্দু অধিকারীর ঘন ঘন সফর প্রসঙ্গে অভিষেক (Abhishek Banerjee) বলেন, তিনি কেন শুধু নির্বাচনের সময়েই আসেন। নিয়মিত এসে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। কেউ যদি তাঁকে থামানোর ষড়যন্ত্র করে, তিনি সেই ষড়যন্ত্র ভেঙে বেরিয়ে আসবেন বলেও মন্তব্য করেন। এদিন দুপুর ১২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করার পর সমস্যার জায়গা বুঝে বিকল্প পথ খুঁজে প্রয়োজনীয় অনুরোধ করেছেন বলেও জানান অভিষেক। এই সফরের শেষে তারাপীঠ মন্দিরে পুজোও দেন অভিষেক।