বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটের আগে জনসংযোগ বাড়াতে ময়দানে নেমেছেন তৃণমূলের সহ-সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। এই উদ্দেশ্যে রাজ্যের জেলায় জেলায় সভা করছেন তিনি। গতকাল বারুইপুরে সভার পর আজ আলিপুরদুয়ারে চা-বাগানের মাঠে সভা করছেন অভিষেক। এই সভায় শ্রমিকদের কাছ থেকে লিখিত ভাবে অভিযোগ ও সমস্যার কথা শোনেন তিনি। মজুরি, জমির পাট্টা, পানীয় জল, স্বাস্থ্য, সব প্রশ্নের তিনি উত্তর দেন মঞ্চ থেকেই।
র্যাম্পে হেঁটে মূল মঞ্চে ওঠেন অভিষেক (Abhishek Banerjee)
আলিপুরদুয়ার শহর সংলগ্ন মাঝেরডাবরি চা-বাগানের মাঠে হওয়া এদিনের সভায় জেলার বিভিন্ন চা-বাগানের শ্রমিকেরা উপস্থিত ছিলেন। বারুইপুরের মতো এখানেও মঞ্চ পর্যন্ত ছিল র্যাম্প। র্যাম্পে হেঁটেই মূল মঞ্চে ওঠেন অভিষেক (Abhishek Banerjee)। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটের আগে চা-বাগানের শ্রমিকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতেই এই সভা। শুধু বক্তৃতা নয়, শ্রমিকদের কথা শোনাই ছিল মূল লক্ষ্য। সভায় শ্রমিকদের বলা হয়, তাঁরা যেন লিখিত ভাবে তাঁদের সমস্যা ও অভিযোগ জানান। সেই কাগজ পড়ে পড়েই একে একে প্রশ্নের উত্তর দেন অভিষেক।
সভায় এক চা-শ্রমিক জানান, তিনি ১৯৯৫ সাল থেকে কাজ করছেন, কিন্তু এখনও জমির পাট্টা পাননি। বাড়ি মেরামত করা হয় না, কোম্পানির এনওসি নেই। উত্তরে অভিষেক (Abhishek Banerjee) বলেন, জমির পাট্টা একটি সংবেদনশীল বিষয়। সরকার যত বেশি সম্ভব মানুষকে পাট্টা দিতে চায়। কিছু জায়গায় আইনি ও প্রশাসনিক কারণে সময় লাগে। তবে সরকার যদি আশ্বাস দিয়ে থাকে, পাট্টা মিলবেই। তৃণমূলের ট্রেড ইউনিয়ন শ্রমিকদের প্রতিটি প্রকৃত সমস্যা তুলে ধরবে বলেও জানান তিনি।
চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি অভিষেকের
চা-শ্রমিকদের মজুরি নিয়েও কথা বলেন অভিষেক (Abhishek Banerjee)। তিনি জানান, ২০১১ সালে তৃণমূল সরকার আসার সময় দৈনিক মজুরি ছিল ৬৭ টাকা। গত ১৪ বছরে তা বেড়ে হয়েছে ২৫০ টাকা। তবে তিনি নিজেই স্বীকার করেন, এই টাকায় সংসার চলে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়েছে। অভিষেকের প্রতিশ্রুতি, চতুর্থ বার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার হলে আলিপুরদুয়ারে বৈঠক করে দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকা করার ব্যবস্থা করবেন।
এদিন স্বাস্থ্য পরিষেবা ও পানীয় জলের সমস্যার কথাও শোনেন অভিষেক (Abhishek Banerjee)। তিনি বলেন, চা-শ্রমিক ও তাঁদের পরিবার যাতে কোনও ভাবে বঞ্চিত না হন, সে দিকে সরকার নজর রাখবে। যাঁরা পানীয় জল পর্যন্ত দিতে পারে না, তারা বড় বড় কথা বলছে, এই বলে বিজেপিকে কটাক্ষ করেন তিনি।
সভায় এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, বিয়ের সরকারি অনুদানের টাকা পাননি। অভিষেক (Abhishek Banerjee) সঙ্গে সঙ্গে তাঁর আবেদনপত্র পাঠাতে বলেন এবং ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন। SIR, ভোটার তালিকা, জমি, বাসস্থান, একে একে সব প্রশ্নই শোনেন তিনি। কোথাও দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন, আবার কোথাও বলেন, আরও একটু ধৈর্য ধরতে হবে।

আরও পড়ুনঃ নিরাপত্তার নামে থমকে শিক্ষা? চিনেপাড়ার স্কুল নিয়ে রাজ্যের রিপোর্ট চাইল হাই কোর্ট
রাজনৈতিক বক্তব্যে অভিষেক (Abhishek Banerjee) বলেন, এ বার আলিপুরদুয়ারকে তৃণমূলের পাশে দাঁড়াতে হবে। সব বুথে জয়ের লক্ষ্য রাখতে হবে। বিজেপিকে নিশানা করে তিনি বলেন, তারা ভোটের সময় ছাড়া মানুষের পাশে থাকে না। SIR-কে নোটবন্দির সঙ্গে তুলনা করেন তিনি। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসাথী ও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের কথা তুলে ধরে তৃণমূল সরকারের কাজের কথা বলেন। সভা শেষে অভিষেক বলেন, তিনি যা প্রতিশ্রুতি দেন, তা পূরণ করার চেষ্টা করেন। চা-বাগানের শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোই তাঁর দায়িত্ব।












