মমতার পথেই অভিষেক, ভোটের আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে জোরালো ঘোষণা নেতার

Published on:

Published on:

Abhishek Banerjee Slams BJP Over ED EC From Bankura Rally
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ শনিবার বাঁকুড়া জেলায় এক দলীয় সভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। ইডি এবং নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে তৃণমূলকে আটকানোর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। অভিষেক স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থার চাপের কাছেই তৃণমূল মাথা নত করবে না।

১২ আসনে তৃণমূল কংগ্রেসকে জেতানোর ডাক অভিষেকের (Abhishek Banerjee)

সভা থেকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বাঁকুড়া জেলার ১২টি আসনেই তৃণমূল কংগ্রেসকে জেতানোর ডাক দেন অভিষেক (Abhishek Banerjee)। তিনি বলেন, “তৃণমূল জিতলে মানুষ অধিকার পাবে। বিজেপি জিতলে মানুষ বঞ্চিত হবে। তৃণমূল জিতলে দু’মুঠো ভাত, বিজেপি জিতলে ধর্মে ধর্মে আঘাত।” অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, বিজেপি কি মনে করছে ইডি ও নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে তৃণমূলকে থামিয়ে দেবে? তাঁর বক্তব্য, তৃণমূল কোনওদিনই এই ধরনের চাপে নতি স্বীকার করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না। একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে বাংলার ইতিহাস জানার পরামর্শ দেন। স্বামী বিবেকানন্দ, রাজা রামমোহন রায়, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জাতি গঠনে অবদানের কথা তুলে ধরেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক (Abhishek Banerjee) দাবি করেন, তৃণমূল না থাকলে আজও রাজ্যে সিপিএমের শাসন চলত। তাঁর মতে, ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচন ছিল রাজনীতির এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা। ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন অভিষেক। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ার জেরে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়ছেন। তাঁর দাবি, এসআইআর-এর চাপের কারণে কেউ অসুস্থ হচ্ছেন, আবার কেউ আত্মহত্যার পথও বেছে নিচ্ছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এই মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী, তাদের রাজনৈতিকভাবেই জবাব দেওয়া হবে।”

এছাড়াও কিছু রাজ্যে বাংলা ভাষায় কথা বললেই মানুষকে বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তৃণমূল নেতা। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রাজ্যের প্রাপ্য প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা আটকে রাখার অভিযোগও তোলেন তিনি। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বাঁকুড়া জেলা থেকে বিজেপির দু’টি আসনে জয়ের প্রসঙ্গ তুলে অভিষেক (Abhishek Banerjee) প্রশ্ন করেন, সেই জয়ের পর বিজেপি কী কাজ করেছে তার রিপোর্ট কার্ড কোথায়। তাঁর দাবি, তৃণমূল সরকার গত ১৫ বছরে রাজ্যে যে উন্নয়নমূলক কাজ করেছে, তার বিস্তারিত রিপোর্ট কার্ড প্রকাশ করা হয়েছে। রাস্তা, পরিকাঠামো, আবাসন, পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং কর্মসংস্থানের নিরিখে রাজ্যের অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন তিনি। জঙ্গলমহল অঞ্চলে মাওবাদী সমস্যা প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, তৃণমূল সরকার শুধু মাওবাদী সন্ত্রাস দমনই করেনি, পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়নও করেছে। জল জীবন মিশন, সড়ক নির্মাণ ও মনরেগার মতো প্রকল্পে কেন্দ্র অর্থ আটকে রেখেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

কয়লা খনির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়েও কেন্দ্রকে দায়ী করেন অভিষেক (Abhishek Banerjee)। তিনি জানান, দীর্ঘ অনুমোদন প্রক্রিয়ার কারণে বেসরকারি কয়লা খনন বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। তাঁর দাবি, ওই অঞ্চলে রাজ্যের হাতে ১৩৩ হেক্টর জমি রয়েছে, যেখানে অন্তত ১৮টি কয়লা খনি গড়ে তোলা সম্ভব। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং মার্চের শেষের মধ্যে সমস্ত অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রায় ২৫ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে জানান তিনি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাঁকুড়া জেলার ১২টি আসনের মধ্যে মাত্র চারটিতে তৃণমূল জয় পেয়েছিল উল্লেখ করে অভিষেক আগামী নির্বাচনে সব আসনে তৃণমূল প্রার্থীদের জয়ী করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “তৃণমূল জিতলে আপনারা অধিকার পাবেন, বিজেপি জিতলে সেই অধিকার কেড়ে নেওয়া হবে।”

Abhishek Banerjee Meets Tea Garden Workers in Alipurduar

আরও পড়ুনঃ বন্দে ভারত স্লিপারেই শেষ নয়, বালুরঘাট-জলপাইগুড়িবাসীর জন্য রেলের ‘ডাবল চমক’

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়েও বিজেপিকে আক্রমণ করেন অভিষেক (Abhishek Banerjee)। বিজেপির এক নেতার মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নির্বাচনের ফলই প্রমাণ করবে বাংলার মায়েরা কাকে সমর্থন করছেন। তিনি জানান, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে রাজ্য সরকার বছরে প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকা খরচ করছে এবং তৃণমূল সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে, এই প্রকল্প চালু থাকবে বলেও আশ্বাস দেন।