‘ভাবতে পারছি না সব শেষ…’ আদরের ছোট বোনের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ অভিনেতা সাহেব চট্টোপাধ্যায়

বাংলাহান্ট ডেস্ক : মাত্র তিনদিনেই সব শেষ! মশার (Dengue) মারণ কামড়ই কেড়ে নিল এক তরতাজা প্রাণ। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েই মৃত্যু হল পিয়াসী চট্টোপাধ্যায়। আদরের বোনকে হারালেন অভিনেতা সাহেব চট্টোপাধ্যায় (Shaheb Chattopadhyay)। ফেসবুকে নিজেই জানিয়েছেন শোকের এই খবর। বোনের মৃত্যুতে ভীষণ ভেঙে পড়েছেন টলিউড তারকা।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দিনকয়েক আগেই ফেসবুকের মাধ্যমেই অভিনেতা জানান তাঁর বোন (পিয়াসী চট্টোপাধ্যায়) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। বেলভিউর ক্রিটিকাল কেয়ারে ভর্তি রয়েছেন তিনি। পরিস্থিতি বেশ খারাপ ছিল। কারণ অভিনেতা জানিয়েছিলেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাঁদের A+ পজিটিভ প্লেটলেটের রক্তদাতা চাই। রক্তদাতার বয়স যেন চল্লিশের নিচে হয়। কিন্তু, আজ আর কোন গুরুত্ব থাকলো না সেই পোস্টের।

   

আরোও পড়ুন : এক্কেবারে ভোলবদল! হাতে বন্দুক, পাল্টাচ্ছে মুখও, কোন ছবির প্রস্তুতি নিচ্ছেন প্রসেনজিৎ?

বুধবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিনেতা জানান, ‘বেলভিউতে ভর্তি থাকা আমার ছোট বোন পিয়াসি চ্যাটার্জির জন্য A+ ডোনারের ব্যবস্থা করার বিষয়ে আমার শেষ পোস্টের (গতকালের) প্রসঙ্গে, আমি প্রত্যেককে এবং সকল প্লেটলেট দাতাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। যারা আমাকে আমার বোনকে বাঁচাতে সাহায্য করার জন্য বহুদূর ভ্রমণ করে এগিয়ে এসেছিলেন।’

আরোও পড়ুন : একাধিক রাজ্যে জ্বালানি তেলের দামে পতন! দেখুন, কলকাতায় কততে বিকোচ্ছে পেট্রোল-ডিজেল

অভিনেতা আরও বলেন, ‘কিন্তু, আমি আপনাদের অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাতে চাই যে বোন আর নেই। খুব বিধ্বস্ত বোধ করছি আমি। ডেঙ্গি তাকে কেড়ে নিয়েছে। তাই তার জন্য আমার আর কোনও দাতার প্রয়োজন হবে না। তার অনন্ত সুখ এবং শান্তি জন্য প্রার্থনা করুন সকলে। ওম শ্রী সাঁইরাম।’ মঙ্গলবার রাত ১টায় প্রয়াত হন সাহেবের বোন পিয়াসি চট্টোপাধ্যায়।

জানা গিয়েছে, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৪০ বছর। মাত্র দু’দিনে শরীরের সমস্ত অঙ্গ বিকল হয়ে গিয়েছিল। পিয়াসি হলেন সাহেবের মাসতুতো বোন কিন্তু ছোট থেকে অভিনেতার বাড়িতে একসঙ্গেই বড় হয়েছেন। ছোটবেলায় মা-বাবাকে হারানোর জন্য সাহেবের মায়ের কাছেই থাকতেন তিনি। তার স্বামী অবশ্য দিল্লি নিবাসী। পিয়াসির একটি দুমাসের মেয়ে আছে বলেও সূত্রের খবর।

screenshot 2023 09 13 15 20 28 66

সাহেবের পোস্ট দেখেই সকলে চমকে উঠেছেন। শোকস্তব্ধ সাহেবকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা নেই কারও কাছেই। অভিনেতা জানিয়েছেন, ভাগ্নির চিকিৎসার কারণেই কলকাতায় এসেছিলেন তার বোন। উল্টে তিনিই যে সবাইকে ছেড়ে চলে যাবেন, তিনি নিজেও ভাবতে পারেননি। একদিকে ছোট বোনকে হারানোর শোক। অন্যদিকে, ছোট্ট শিশুর মুখের দিকে তাকিয়ে যেন আরও খানিক ভেঙে পড়ছে পরিবার।

 

 

Avatar
Soumita

আমি সৌমিতা। বিগত ৩ বছর ধরে কর্মরত ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমে। রাজনীতি থেকে শুরু করে ভ্রমণ, ভাইরাল তথ্য থেকে শুরু করে বিনোদন, পাঠকের কাছে নির্ভুল খবর পৌঁছে দেওয়াই আমার একমাত্র লক্ষ্য।

সম্পর্কিত খবর