বাংলা হান্ট ডেস্ক: ভারতের নিউক্লিয়ার পাওয়ার সেক্টরে প্রথমবারের মতো বেসরকারি কোম্পানিগুলির প্রবেশের দরজা উন্মুক্ত হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে সরকার শীঘ্রই দেশের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত নিউক্লিয়ার সেক্টর বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত করতে পারে। যা ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং উৎপাদন ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে। এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর এহেন ঘোষণার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই, আদানি গ্রুপ (Adani Group) এই সেক্টরে প্রবেশের জন্য তুমুল আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার সেক্টরে এন্ট্রি নিতে ইচ্ছুক আদানি গ্রুপ (Adani Group):
PPP মডেলের অধীনে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্রজেক্ট শুরু হতে পারে: আদানি গ্রুপ জানিয়েছে যে, সরকার যদি পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য একটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) মডেল চালু করে, তাহলে আদানি গ্রুপ অংশগ্রহণের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আদানি গ্রুপটি আরও বলেছে যে, পারমাণবিক প্রকল্প সম্পর্কিত সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল লাইয়াবিলিটি ল। অর্থাৎ, যদি দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দায়িত্ব নির্ধারণকারী আইনগুলি স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়, তাহলে বেসরকারি কোম্পানিগুলির জন্য এই সেক্টরে কাজ করা অনেক সহজ হয়ে যাবে। আদানি গ্রুপের মতে, যদি EDF-এর মতো বিদেশি কোম্পানিগুলি ভারতে পারমাণবিক চুল্লি তৈরি করতে পারে, তাহলে ভারতীয় কোম্পানিগুলিও এই কাজটি খুব ভালোভাবে করতে পারবে।

আদানি গ্রুপের ফান্ডের জন্য মেগা প্ল্যান: জানিয়ে রাখি যে, আদানি গ্রুপ তাদের বিশাল বিনিয়োগ কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ আপডেটও দিয়েছে। কোম্পানিটি আগামী দিনে ১.৫৭ লক্ষ কোটি টাকার ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচারের (ক্যাপেক্স) পরিকল্পনা করছে। এই মেগা পরিকল্পনার ফান্ড সংগ্রহের জন্য, কোম্পানিটি প্রায় ৯০,০০০ কোটি টাকা ঋণ সংগ্রহেরও প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আদানি গ্রুপের CFO জুখশিন্দর রবি সিং-এর মতে, কোম্পানিটি ইতিমধ্যেই প্রায় ৮০,০০০ কোটি টাকার ক্যাপিটাল বিনিয়োগ করেছে। বাকি অর্থ অভ্যন্তরীণ সঞ্চয় এবং ইক্যুইটির মিশ্রণের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে। জুখশিন্দর রবি সিং আরও জানিয়েছেন অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে আনুমানিক ৩৬,০০০ কোটি টাকা আসবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। যেখানে বহিরাগত ঋণ এবং ইক্যুইটির মাধ্যমে আনুমানিক ৪৪,০০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এইভাবে কোম্পানিটি তার মোট ক্যাপেক্সের লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে ১.৫৭ লক্ষ কোটি টাকার সমতুল্য ফান্ড সংগ্রহ করবে।
আরও পড়ুন: ব্যাঙ্কের ওপর কমবে চাপ, সহজেই হবে কাজ! RBI-র এই বিশেষ পদক্ষেপে গ্রাহকরা হবেন লাভবান
নিউক্লিয়ার পাওয়ারে আত্মনির্ভর হবে ভারত: প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, নিউক্লিয়ার সেক্টরে বেসরকারি কোম্পানিগুলি প্রবেশ ভারতের জ্বালানি কৌশলে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। নীতি ও দায়বদ্ধতার নিয়ম স্পষ্ট হলে, আদানির মতো কোম্পানিগুলির অংশগ্রহণ দেশে বৃহৎ পরিসরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতার ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনাও করতে পারে।












