টাইমলাইনভারত

ভিখারিনীর সঙ্গে প্রেম, বিয়ের প্রস্তাবে রাজী হয়েই মন্দিরে হল চারহাত এক

বাংলাহান্ট ডেস্কঃ এ যেন পুরো সেলুলয়েডের কাহিনী। প্রেম (love) অন্ধ একথা আমরা গল্প কথায় অনেকবারই পড়েছি, কিন্তু বাস্তবে এমন ভালোবাসা কজন পায়। খাঁটি ভালোবাসা সত্যিই কষ্টসাধ্য বিষয়। তবে আজকের এই ঘটনা কোন সিলভার স্ক্রীনের পর্দার গল্পের থেকে কম ঘটনা কিছু নয়। এক অন্ধ ভালোবাসার বাস্তব রূপ।

অশোক কুমার নামের এক যুবক এবং উর্মিলা নামের এক মেয়ের গল্প এটা। উর্মিলা এক দুঃখিনী মেয়ে, যে দুই সন্তানের মা ছিল। একবছর আগে জোর করে উর্মিলার মেয়েকে যাযাবর জাতির লোকেরা নিজেদের সঙ্গে নিয়ে যায়। কিন্তু উর্মিলা এবং তাঁর ছেলেকে তারা নিতে অস্বীকার করে রেখে যায়। তারপর থেকেই জায়গায় জায়গায় ভিক্ষা করে উর্মিলা নিজের এবং তাঁর ছেলের পেট চালাত।

এদিকে অশোক কুমার নামের এক যুবক কাবাড়া ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তিনি উর্মিলা এবং তাঁর ছেলেকে দেখা মাত্রই, তাঁর হৃদয় তাদের জন্য কেঁদে ওঠে। তাদের সেই নিষ্পাপ মুখ দেখে অশোক কুমার স্থির করে নেয়, যে তিনি উর্মিলাকে বিবাহ করবেন। যেমন ভাবা তেমন কাজ। বেশি দেরী না করেই সরাসরি উর্মিলাকে বিবাহের জন্য প্রপোজ করে অশোক কুমার। ওদিকে উর্মিলাও নিজের এবং তাঁর ছেলের নতুন জীবন ফিরে পাওয়ার আশা দেখে অশোক কুমারের প্রস্তাবে রাজী হয়ে যায়।

মিয়াঁ বিবি রাজী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা বিন্দুমাত্র দেরি করলেন না। নতুন সংসারে প্রবেশের জন্য শীঘ্রই তারা বিবাহের দিন স্থির করে ফেললেন। ওদিকে অশোক কুমারের তিন কূলে কেউ নেই, আর এদিকে উর্মিলারও ছেলে ছাড়া কেউ নেই। তাই সাসামুসা গোপালগঞ্জের বাজারে অবস্থিত দুর্গা মন্দিরে তাদের চারহাত এক করে দেন পুজারী পঞ্চানন্দজি। এই ভালোবাসার বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন বাজারের বেশ কয়েকজন দোকানদার এবং আশেপাশের কয়েকজন মানুষ। সকলেই তাদের এই নতুন জীবনের সূচনায় দুজনকে প্রাণ খুলে আশির্বাদ করেছেন। সেইসঙ্গে অশোক কুমারের প্রশংসায় মুখর হয়েছেন।

Back to top button