বাংলাহান্ট ডেস্ক: ফের বিদ্রোহের আগুনে জ্বলে উঠল পাকিস্তান (Pakistan)-অধিকৃত কাশ্মীরের গিলগিট-বালটিস্তান। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিফ মুনিরের অঙ্গুলিহেলনে পরিচালিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরুদ্ধে পথে নামল সেখানকার যুবসমাজ, বিশেষ করে জেন-জি প্রজন্ম। শুধু তরুণরাই নন, তাঁদের সঙ্গে বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন সাধারণ নাগরিক ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও। ফলে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি।
সরকারের বিরুদ্ধে পাক (Pakistan) অধিকৃত কাশ্মীরে বিদ্রোহ জেন-জিদের
পাকিস্তানের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম ‘ডন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার গিলগিট-বালটিস্তানের মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ের বাইরে হাজার হাজার মানুষ জমায়েত করেন। নির্বাচনের আগে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র স্লোগান ওঠে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, জনরোষ সামাল দেওয়ার নাম করে যে তত্ত্বাবধায়ক মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছিল, সেখানে ধীরে ধীরে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়োগ করা হচ্ছে। এর ফলে নিরপেক্ষ প্রশাসনের বদলে দলীয় স্বার্থকেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ, যা আসন্ন নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
আরও পড়ুন: বাজেটের আগেই ইনকাম ট্যাক্স সম্পর্কিত বিশেষ ইঙ্গিত! মধ্যবিত্তরা পেতে পারেন বিরাট স্বস্তি
বিক্ষোভের জেরে দীর্ঘ সময় অচল হয়ে পড়ে গিলগিট শহরের গুরুত্বপূর্ণ চিনারবাগ রিভার রোড। যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, স্বাভাবিক জনজীবন কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ নামানো হয় এবং জিবি ইউথ মুভমেন্টের চেয়ারম্যান আজফার জামসেদ-সহ অন্তত আট জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়। আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত আলোচনায় যুবসমাজকে উপেক্ষা করা হলে আন্দোলন আরও ব্যাপক ও সহিংস রূপ নিতে পারে।
উল্লেখ্য, পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে গিলগিট-বালটিস্তানে ক্ষোভ নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা ব্যবস্থা, পরিকাঠামো এবং পানীয় জলের ঘাটতি নিয়ে ক্ষুব্ধ সেখানকার বাসিন্দারা। তার উপর সরকারি দফতরে অবহেলা, দুর্নীতি ও ঘুষের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সাধারণ মানুষের দাবি, প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এই অঞ্চল থেকে রাজস্ব আদায় করা হলেও উন্নয়নের ছিটেফোঁটাও স্থানীয়দের ভাগ্যে জোটে না।

আরও পড়ুন:আরও শক্তিশালী হল দেশের গ্রিন এনার্জি অভিযান! এবার যা করে দেখাল ভারত, জানলে চমকে উঠবেন
এই ক্ষোভ গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ভয়াবহ আকার নিয়েছিল। সে সময় সরকারের বিরুদ্ধে চলা আন্দোলন দমন করতে পুলিশ গুলি চালায় বলে অভিযোগ ওঠে, যার জেরে বহু সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও ক্ষত সারেনি। ফের তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে কেন্দ্র করে নতুন করে যে আন্দোলন শুরু হল, তা পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের গভীর রাজনৈতিক অস্থিরতার দিকেই ইঙ্গিত করছে।












