টাইমলাইনভারতরাজনীতি

৩৫০০ মসজিদ ভেঙে ফেলবে বিজেপি! সাংসদের দাবি ঘিরে জোর বিতর্ক

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ সামনেই অসমে বিধানসভার নির্বাচন। আর আসন্ন নির্বাচন নিয়ে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে শাসক থেকে বিরোধী সমস্ত দলই। দুদিন আগে অসমে বিজেপিকে ঠেকাতে ৫ টি দলের সাথে জোটের ঘোষণা করেছিল কংগ্রেস। ওই পাঁচটি দলের মধ্যে অন্যতম হল বদরুদ্দিন আজমলের অল ইন্ডিয়া ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (AIUDF)।

AIUDF একটি সাম্প্রদায়িক দল হিসবেই পরিচিত। এবার AIUDF এর সাংসদ বদরুদ্দিন আজমলের এমনই এক সাম্প্রাদায়িক মন্তব্যে অসমের রাজনীতিতে ঝড় উঠেছে। AIUDF সাংসদ বদরুদ্দিন আজমল নিজের সংসদীয় এলাকা গৌরীপুরের একটি জনসভায় বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়াতে গিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন। তিনি ওই জনসভা থেকে বলেন, বিজেপি দেশে শত্রু, মহিলাদের শত্রু আর বিজেপি রাজ্যের ৩৫০০ টি মসজিদ ভেঙে ফেলার উপক্রম করেছে। আর এই জন্য তাঁরা একটি তালিকাও তৈরি করেছে।

বদরুদ্দিন আজমল দাবি করে বলেন, বিজেপি যদি আবারও কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসে তাহলে সেই মসজিদ গুলোকে ভেঙে ফেলবে। তিনি এও বলেন যে, বিজেপি অসমে আবারও ক্ষমতায় এলে বোরখা পরা মহিলাদের বাড়ি থেকে বের হতে দেবে না। তিনি এটাই বোঝাতে চেয়েছেন যে, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে বোরখা নিষিদ্ধ করে দেওয়া হবে। তবে তিনি কীসের ভিত্তিতে এসব দাবি করছেন, সেটা নিয়ে খোলসা করেন নি।

জানিয়ে রাখি, অসমে ইতিমধ্যে সরকার দ্বারা পরিচালিত সমস্ত মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যদিও সমস্ত মাদ্রাসাই না, এর সাথে সাথে বন্ধ হয়েছে সরকার দ্বারা পরিচালিত সমস্ত ধার্মিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো। সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, সরকারি টাকা দিয়ে আর ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হবে না। তবে বেসরকারি মাদ্রাসা সমেত ধার্মিক প্রতিষ্ঠান গুলো রাজ্যে চলার অনুমতি দিয়েছে সরকার।

এছাড়াও অসম সরকারের মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এর আগে বলেছিলেন যে, এবার বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যে লাভ জিহাদ বিরোধী আইন চালু করবেন। তিনি বলেছিলেন যে নাম, পরিচয় গোপন করে হিন্দুদের মেয়েদের সাথে প্রতারণা করার আর বরদাস্ত করা হবে না। এর সাথে সাথে তিনি এও বলেছিলেন যে, আজমলের ছেলেরা রাজ্যের হিন্দু মেয়েদের ফাঁসাচ্ছে। সেটার বিরুদ্ধে তিনি ব্যবস্থা নেবেন।

তবে কংগ্রেসের জোট সঙ্গী অল ইন্ডিয়া ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট এর প্রধান তথা সাংসদের এহেন সাম্প্রদায়িক মন্তব্যে বিপাকে পড়েছে কংগ্রেস। গোটা দেশে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা দলের জোট সঙ্গীর প্রধানের মুখে সাম্প্রদায়িক উস্কানি নিয়ে প্রশ্নের মুখে কংগ্রেস।

Back to top button