উত্তরকাশী উদ্ধারে বড় সাফল্য! মাত্র কয়েক মিটারের দূরত্ব মিটলেই একে একে বেরিয়ে আসবে ৪১ জন শ্রমিক

বাংলা হান্ট ডেস্ক : এবার ইঁদুরের কায়দায় গর্ত খুঁড়ে উদ্ধার করা হবে উত্তরকাশীর (Uttarkashi) সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শ্রমিকদের। আর তাতেই মিলেছে নজিরবিহীন সাফল্য। সিল্কিয়ারা টানেলে আটক ৪১ শ্রমিককে বের করে আনতে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে র‌্যাট হোল মাইনরস টিম (Rat Miners) । একটা সময় এই র‌্যাট হোল মাইনরসদের দেশে নিষিদ্ধ করলেও এখন তারাই ত্রাতার ভূমিকায়।

কাজে নেমেছে র‌্যাট হোল মাইনরসরা

   

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, কয়লা খনি থেকে কয়লা তোলার সময় এই পদ্ধতি কাজে লাগানো হয়। আটকে থাকা শ্রমিকদের থেকে যে ১২ মিটার পথ অগার মেশিনটি পার করতে পারেনি এবার সেই পথকেই ইঁদুরের গর্ত খোঁড়ার মত করে এগিয়ে চলেছেন র‌্যাট হোল মাইনরসরা। সূত্র বলছে, মোট ১২ জন র‌্যাট মাইনরস রয়েছে এই টিমে। এই পদ্ধতিতে খুব সরু গর্ত করে নীচের দিকে এগিয়ে যাওয়া হয়।

তৈরি করা হয়েছে গ্রীন করিডোর

অন্যদিকে সুড়ঙ্গ থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত তৈরি করা হয়েছে গ্রিন করিডোর। রাখা হয়েছে মোট ৪১ টি অ্যাম্বুলেন্স। ৪১ জন শ্রমিককে সুড়ঙ্গ থেকে বার করার সাথে সাথেই অ্যাম্বুল্যান্সে চাপিয়ে শ্রমিকদের নিয়ে যাওয়া হবে উত্তরকাশীর জেলা হাসপাতালে। গোটা বিষয়টির তদারকি করার জন্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর ধামি।

র‌্যাট হোল মাইনিং কী

জানিয়ে রাখি, গ্রিন ট্রাইব্যুনাল ইতিমধ্যেই এই পদ্ধতি নিষিদ্ধ করেছে। বলা হয়, এই পদ্ধতিতে খনন করলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এতে করে ভূগর্ভস্থ জলে অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যায়। যদিও এখন এই র‌্যাট হোল মাইনরসরাই শেষ ভরসা। টানা ১৭ দিন অন্ধকূপে থাকার পর শ্রমিকদের শারিরীক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টাও ভাবাচ্ছে চিকিৎসকদের। এমন পরিস্থিতিতে কোনোরকম সময় নষ্ট তারা করতে চাইছেন না।

 

কী বলছে NDMA আধিকারিকরা?

জানা যাচ্ছে, আটকে থাকা শ্রমিকদের কাছে পৌঁছাতে আর কয়েক ঘন্টাই বাকি। ইতিমধ্যেই প্রায় ৫৮ মিটার সুড়ঙ্গ খুঁড়ে ফেলেছে উদ্ধারকারী দল। শ্রমিকদের কাছে পৌঁছাতে ১.২ মিটার ব্যাসের ওই সুড়ঙ্গ খুঁড়তে হবে ৭৮ মিটার। বাকি রাস্তা পৌঁছাতে আরও ৪০ ঘন্টার মত সময় লাগবে বলে দাবি তাদের। এক NDMA আধিকারিকের দাবি, ‘আমরা একটি অগ্রগতির কাছাকাছি কিন্তু এখনও সেখানে না। ম্যানুয়াল কাজ করা হয়েছে এবং আমরা ৫৪ মিটারে পৌঁছেছি। ধ্বংসাবশেষ কেটে ফেলা হয়েছে এবং কাজ চলছে সারা রাত।’