বাংলাহান্ট ডেস্ক: পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের (Pakistan) মধ্যে চলমান কূটনৈতিক সংঘাতের প্রভাব এখন স্পষ্টভাবে পড়েছে দুই দেশের অর্থনীতিতে। তাদের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে সম্প্রতি এক ধাক্কায় ৫৩ শতাংশ পতন হয়েছে, যা উভয় দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য কার্যত স্তব্ধ করে দিয়েছে। একসময় ২.৬১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এই বাণিজ্যিক সম্পর্ক এখন নেমে এসেছে মাত্র ৫৯৪ মিলিয়ন ডলারে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য নেশনের প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আর্থিক সঙ্কটের আবহেই বিপুল ক্ষতি পাকিস্তানে (Pakistan):
এই বাণিজ্যিক পতনের পেছনে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং তার ফলে ঘনঘন সীমান্ত বন্ধ হয়ে যাওয়াকে। সীমান্তে বাণিজ্যিক পথ বন্ধ থাকায় পাকিস্তানি রপ্তানিকারকরা প্রতি মাসে গড়ে ১৭৭ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ হাজার হাজার কোটি টাকা ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছেন। এটি পাকিস্তানের রপ্তানি খাতের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করেছে এবং দেশটির আর্থিক সংকটকে আরও গভীর করছে।
আরও পড়ুন:শীতে সর্দি-কাশিতে মুখে অরুচি ধরেছে? সামান্য উপকরণ দিয়ে বানান কালোজিরের ভর্তা, প্রণালী রইল
বিশ্লেষকদের মতে, এই সঙ্কটে উভয় দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পাকিস্তানের ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ কুতুবুদ্দিন ইয়াকুবি উল্লেখ করেছেন, পাকিস্তান আফগানিস্তানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদী বাজার কার্যত হারিয়েছে, যা ভবিষ্যতের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে যেমন পাকিস্তানি রপ্তানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে আফগান ব্যবসায়ী ও কৃষকরাও আমদানি নির্ভর পণ্যের ঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে সমস্যায় পড়েছেন।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের জন্য আরও বড় আঞ্চলিক কৌশলগত ক্ষতি হয়েছে মধ্য এশিয়ায় প্রবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায়। আফগানিস্তানের মধ্য দিয়েই পাকিস্তান মধ্য এশিয়ার বাজারে পৌঁছানোর উচ্চাকাঙ্ক্ষা পোষণ করছিল, যা এখন বড় ধাক্কা খেয়েছে। আফগানিস্তান-পাকিস্তান যৌথ বাণিজ্য সমিতির উদ্যোগে সংকট সমাধানের জন্য একটি সাত সদস্যের কমিটি গঠন করা হলেও, প্রস্তাবিত আলোচনা এখনও শুরু হয়নি।

আরও পড়ুন: পাকিস্তান থেকে যুদ্ধবিমান কিনতে চায় বাংলাদেশ! কী প্রতিক্রিয়া ভারতের?
এই বাণিজ্যিক বিপর্যয় কেবল অর্থনৈতিক সংকটই নয়, এটি দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্যেও একটি উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যতদিন পর্যন্ত কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত উত্তেজনা চলবে, ততদিন এই বাণিজ্যিক স্থবিরতা কাটানো কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।












