বাংলাহান্ট ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়ায় একটি নতুন ও অত্যাধুনিক নৌসেনা ঘাঁটি প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত (India) সরকার। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পরিষদ এই পরিকল্পনায় ইতিমধ্যে ছাড়পত্র দিয়েছে। বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাজনিত বিবেচনায় এই কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিরক্ষা মহল সূত্রে জানা গেছে।
হলদিয়ায় নতুন নৌসেনা ঘাঁটি তৈরিতে অনুমোদন ভারত (India) সরকারের
এই নতুন ঘাঁটিতে দ্রুত গতিতে হামলা চালানো ও নজরদারির জন্য বিশেষভাবে নির্মিত ছোট ও অত্যাধুনিক রণতরী মোতায়েন করা হবে। সূত্রমতে, এখানে প্রায় ১০০ টন ওজনের, ঘণ্টায় ৪৫ নটিক্যাল মাইল বেগে চলতে সক্ষম একাধিক রণতরী থাকবে, যেগুলোতে শক্তিশালী মেশিনগান বসানো থাকবে। এই ঘাঁটির কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন প্রায় একশ নৌসেনা অফিসার। যদিও ঘাঁটির আনুষ্ঠানিক নাম এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে।
আরও পড়ুন:বছর শুরুতেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খবর, বিজ্ঞপ্তি জারি করল অর্থ দপ্তর
এই সিদ্ধান্তের পটভূমিতে রয়েছে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও জটিল আঞ্চলিক সম্পর্ক। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদেশ গমনের পর থেকে দেশটিতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার রক্ষণশীল গোষ্ঠীগুলিকে পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
একইসঙ্গে, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর বাংলাদেশের সঙ্গে চিন ও পাকিস্তানের কৌশলগত সহযোগিতা বাড়ছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। গত এক দশক ধরে বাংলাদেশে নিজস্ব প্রভাব বিস্তারে সক্রিয় চীন ইতিমধ্যে দেশটির নৌবাহিনীকে দুটি ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন দিয়েছে এবং চট্টগ্রামে একটি সাবমেরিন ঘাঁটি নির্মাণের কাজ চলছে। এছাড়াও বাংলাদেশের বন্দরে চীন ও পাকিস্তানের যুদ্ধজাহাজের নিয়মিত যাতায়াত ভারতের জন্য নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

আরও পড়ুন: দায়িত্বের বোঝা বাড়ছেই! BLO ডিউটির পর এবার শিক্ষকদের দিয়ে কুকুর গণনার নির্দেশ
এই সমগ্র প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশের অত্যন্ত নিকটবর্তী হলদিয়ায় নৌ ঘাঁটি স্থাপনের সিদ্ধান্তকে একটি সতর্কতামূলক ও প্রতিরোধমূলক কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতীয় নৌবাহিনীর সূত্র জানায়, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা বাড়ানো এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্গোপসাগর এবং সংবেদনশীল গঙ্গা-বদ্বীপ অঞ্চলে নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ জোরদার করাই হলদিয়া ঘাঁটির কৌশলগত গুরুত্ব।












