বাংলাদেশে অশান্তির আবহে ঢাকা থেকে দিল্লিতে আন্তর্জাতিক কল, কী কথা হল দুই সেনাপ্রধানের?

Published on:

Published on:

Amidst the unrest India-Bangladesh held a phone conversation.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভোটের উত্তপ্ত আবহে পদ্মাপাড়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। সাথে টানাপোড়ন শুরু হয়েছে ভারত বাংলাদেশ (India-Bangladesh) সম্পর্কেরও। কখনও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বিচ্ছিন্ন করার হুঁশিয়ারি, কখনও আবার ভারত ভেঙে ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ তৈরির স্বপ্ন—এমন উসকানিমূলক বক্তব্যে সরগরম বাংলাদেশের রাজনৈতিক ময়দান। এরই মধ্যে সাম্প্রতিক হিংসা, উগ্রপন্থীদের তাণ্ডব এবং হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাতারাতি যে ভাবে পরিস্থিতির মোড় ঘুরে গিয়েছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে নয়াদিল্লি। কূটনৈতিক স্তরে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

অশান্তির আবহে কথা হল ভারত-বাংলাদেশ (India-Bangladesh) দুই দেশের সেনাপ্রধানের:

এই টানটান পরিস্থিতির মধ্যেই শনিবার একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ফোনালাপ হয় ঢাকা ও নয়াদিল্লির (India-Bangladesh) মধ্যে। বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ফোন করেন ভারতের চিফ অব আর্মি স্টাফ জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদিকে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ ১৮-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই কথোপকথনে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান আশ্বাস দেন যে, বাংলাদেশে থাকা সমস্ত ভারতীয় সম্পত্তি সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে। বর্তমান অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেও কোনও ভারতীয় সম্পত্তির ক্ষতি হতে দেওয়া হবে না বলে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন এবং যে কোনও উপায়ে তা রক্ষা করা হবে বলেও জানান।

আরও পড়ুন:ট্রেনের টিকিট কাটার আগে সাবধান! তৎকাল বুকিংয়ে নতুন নিয়মে কড়া শাস্তির হুঁশিয়ারি রেলের

উল্লেখ্য, গত তিন দিন ধরে ঢাকা-সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে চরম অশান্তি চলছে। উগ্রপন্থী ও উত্তেজিত জনতার তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান ছায়ানট। শুধু তাই নয়, দেশের অন্যতম দুইটি সংবাদমাধ্যমের অফিসে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই অবনতিতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়েও বড় প্রশ্ন উঠেছে।

যদিও সেনাপ্রধানের আশ্বাসে কূটনৈতিক স্তরে কিছুটা স্বস্তির বার্তা মিলেছে, তবে বাস্তব পরিস্থিতি কিন্তু এখনও উদ্বেগজনক। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাসের হত্যার ঘটনার পরেও সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলা থামেনি। শনিবার আরও এক সংখ্যালঘু ব্যক্তি আক্রান্ত হন। তাঁর নাম গোবিন্দ বিশ্বাস, পেশায় তিনি রিক্সাচালক। অভিযোগ, তাঁর হাতে লাল সুতো দেখে জামাতে-ইসলামির কয়েকজন নেতা-কর্মী তাঁকে আটক করে নির্মমভাবে মারধর করে।

Amidst the unrest India-Bangladesh held a phone conversation

আরও পড়ুন:সোনার দামে পতন! বছর শেষে মধ্যবিত্তের মুখে স্বস্তির নিঃশ্বাস, জানুন আজকের লেটেস্ট রেট

গণপিটুনিতে গুরুতর আহত গোবিন্দ বিশ্বাসকে মরণাপন্ন অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর চোখ ও বুকে গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং অবস্থা আশঙ্কাজনক। একদিকে আন্তর্জাতিক স্তরে আশ্বাস ও কূটনৈতিক তৎপরতা, অন্যদিকে বাস্তবে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা—এই দ্বন্দ্বময় পরিস্থিতিই এখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ছবিকে আরও জটিল করে তুলছে।