বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পকে ঘিরে ফের নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবির সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন, স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পে ভয়াবহ আর্থিক অনিয়ম চলছে। তাঁর দাবি, এই দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পরিষেবা কার্যত ভেঙে পড়ছে। সম্প্রতি হুমায়ুন কবীরের একটি ভিডিও এক্স (X) হ্যান্ডেলে শেয়ার করেছেন অমিত মালব্য (Amit Malviya)। সেই ভিডিও ঘিরেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।
আবার নতুন করে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে রাজ্য
রাজনীতিতে আলোড়ন ফেললেন মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবির। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য প্রকল্প স্বাস্থ্য সাথী এখন ভয়াবহ আর্থিক অনিয়মের কবলে। একটি সাক্ষাৎকারে হুমায়ুন কবির দাবি করেন, বহরমপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর চাপ এতটাই বেশি যে এক একটি বেডে একাধিক রোগীকে শুয়ে থাকতে হচ্ছে। এমনকি অনেক রোগীকে বেডের নিচেও থাকতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, এটাই কি রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য পরিষেবার বাস্তব চিত্র?
শুধু হাসপাতালের অব্যবস্থাই নয়, স্বাস্থ্য সাথী কার্ড নিয়েও আরও বিস্ফোরক অভিযোগ করেন হুমায়ুন কবির। তাঁর দাবি, গ্রামের গরিব মানুষ যেখানে বাস্তবে মাত্র ৫ হাজার টাকার চিকিৎসা পরিষেবা পাচ্ছেন, সেখানে বেসরকারি নার্সিংহোম সেই চিকিৎসার বিল বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দেখাচ্ছে। এখানেই শেষ নয়। ওই ভুয়ো বিল পাশ করানোর জন্য স্বাস্থ্য দপ্তরের কিছু অফিসারকে ঘুষ দিতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সব মিলিয়ে এই পুরো প্রক্রিয়ায় বেসরকারি নার্সিংহোমগুলোর বিপুল অঙ্কের লাভ হচ্ছে, আর তার মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
ভিডিও শেয়ার করে কি লিখেছেন অমিত (Amit Malviya)?
এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র আক্রমণে নেমেছে বিজেপি। দলের সর্বভারতীয় আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য (Amit Malviya) ভিডিওটি শেয়ার করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে সরাসরি দুর্নীতিগ্রস্ত বলে কটাক্ষ করেন। অমিত মালব্য তাঁর পোস্টে লেখেন, স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে শুরু করে বন্যা ও ত্রাণ, সব ক্ষেত্রেই বাংলায় সংগঠিত লুট চলছে।

আরও পড়ুনঃ নতুন বছরে স্কুলে কড়া শাসন! ২০২৬ একাডেমিক ক্যালেন্ডারে একগুচ্ছ নিয়ম জারি মধ্যশিক্ষা পর্ষদের
এখানেই শেষ নয়, অমিত মালব্য (Amit Malviya) আরও দাবি জানিয়ে বলেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে একের পর এক কেলেঙ্কারি সামনে আসছে, যা প্রমাণ করে দেয় যে রাজ্যের শাসনব্যবস্থা সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষা করতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ। স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প ঘিরে ওঠা এই অভিযোগ এখন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।












