বাংলাহান্ট ডেস্ক- ভোটার অধিকার যাত্রায় কুমন্তব্য রাহুলের, ক্ষমা চাইতে বলে তীব্র আক্রমণ অমিত শাহের (Amit Shah)। বিহারে কংগ্রেসের ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’কে কেন্দ্র করে ফের রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে। যাত্রাপথে দিন দুয়েক আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (Narendra Modi) কুৎসিত ও ছাপার অযোগ্য ভাষায় আক্রমণ করেছেন কংগ্রেসের একাংশ নেতা-কর্মীরা—এমন অভিযোগ ঘিরেই নতুন করে সংঘাত তৈরি হয়েছে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে। শুক্রবার এ প্রসঙ্গে সরাসরি রাহুল গান্ধীকে (Rahul Gandhi) আক্রমণ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর কথায়, ‘‘দু’দিন আগে যা ঘটেছে, তাতে দেশবাসী ব্যথিত। মোদিজির মা নিজে অতি সাধারণ জীবনযাপন করেছেন, আর তাঁর ছেলে আজ বিশ্বমঞ্চে এক বিশ্বাসযোগ্য নেতা হিসেবে ভারতের সম্মান বাড়িয়েছেন। এমন একজন মানুষকে কুৎসিত ভাষায় আক্রমণ করা দেশের মানুষ কোনোদিনই সহ্য করবে না। রাজনৈতিক জীবনে এর থেকে নীচে নামা সম্ভব নয়। আমি এর তীব্র নিন্দা করছি।’’
রাহুলকে তোপ অমিত শাহের (Amit Shah)
রাহুল গান্ধীকে উদ্দেশ করে শাহ আরও বলেন, ‘‘আপনার যদি সামান্যতম লজ্জাবোধ থাকে, তবে মোদিজি এবং তাঁর প্রয়াত মায়ের কাছে ক্ষমা চান। শুধু তাই নয়, গোটা দেশের মানুষের কাছেও ক্ষমা চাইতে হবে আপনাকে।’’ এদিনের বক্তব্যে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘ঘৃণার রাজনীতি’ ছড়ানোর অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, ‘‘বিহারে রাহুল গান্ধীর যাত্রা আসলে ভোটারদের নয়, বরং অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করার যাত্রা। কংগ্রেস যত বেশি কুকথা বলবে, বিজেপি ততই শক্তিশালী হয়ে উঠবে।’’
আরও পড়ুন:- “বিশ্ব ভারতের ওপর ভরসা করে”, ট্রাম্পের সঙ্গে শুল্কযুদ্ধের আবহে জাপানে পৌঁছে বিশেষ বার্তা মোদীর
শাহের এই আক্রমণের পর পশ্চিমবঙ্গেও চড়চড়ে হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। অভিযোগ, শুক্রবার দুপুরে কলকাতায় কংগ্রেসের দপ্তরে হঠাৎ হামলা চালান বিজেপি কর্মীরা। ঘটনাস্থলে কংগ্রেসের পতাকায় আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, রাহুল গান্ধীর পোস্টারে কালি ছেটানো হয় এবং অফিস চত্বরে থাকা ব্যানার-পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয় বলে অভিযোগ করেছে প্রদেশ কংগ্রেস। ঘটনায় বিজেপির নেতা রাকেশ সিংয়ের নাম জড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে কংগ্রেস।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারও এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করেছেন। তিনি রাজ্য বিজেপি সভাপতিকে একটি খোলা চিঠি লিখে জানিয়েছেন, গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে ভিন্নমত থাকতেই পারে, কিন্তু তার জন্য হিংসাত্মক পথ বেছে নেওয়া যায় না। শুভঙ্করের অভিযোগ, বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে কংগ্রেসকে ভয় দেখাতে এবং আন্দোলন স্তব্ধ করে দিতে চাইছে।
আরও পড়ুন:- নতুন কোম্পানির ঘোষণা আম্বানির! কবে আসছে Jio-র IPO? জানিয়ে দিলেন ধনকুবের
কংগ্রেসের তরফ থেকে অভিযোগ উঠছে, বিহারের ঘটনায় অমিত শাহের বক্তব্য এবং তারপর কলকাতার কংগ্রেস দপ্তরে হামলার মধ্যে কার্যত যোগসূত্র রয়েছে। যদিও রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এ ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো যোগ নেই। বিজেপি বলছে, সাধারণ কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ভোটার অধিকার যাত্রাকে ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে সংঘাত নতুন মাত্রা পেল। কংগ্রেস একদিকে ক্ষমা চাইতে অস্বীকার করছে, অন্যদিকে বিজেপি এই ইস্যুতে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাচ্ছে। আগামী দিনে এই দ্বন্দ্ব রাজনৈতিক অঙ্গনে ঠিক কোন দিকে মোড় নেয় সেটাই এখন দেখার বিষয়।