সাম্প্রদায়িক হিংসায় রণক্ষেত্র হরিয়ানা! গুরুগ্রামে জ্বালিয়ে দেওয়া হল মসজিদ, খুন ইমাম

বাংলা হান্ট ডেস্ক : রণক্ষেত্র হরিয়ানা (Haryana Violence)। হিংসার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে গুরুগ্রাম। সে রাজ্যের নুহ জেলায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতা শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর মঙ্গলবার ভোরে হরিয়ানার গুরুগ্রামের (Gurgaon) সেক্টর ৫৭-এ একটি মসজিদ পুড়িয়ে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, অভিযোগ উঠছে ওই মসজিদের ইমামকে হত্যা করেছে দুষ্কৃতিরা।

হরিয়ানায় শুরু হয়েছে তীব্র সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মিছিল আটকানোর অভিযোগ ওঠে। তারপরই শুরু হয় তীব্র হিংসা। জারি হয় ১৪৪ ধারাও। একটি ধর্মীয় মিছিলকে আটকানোর চেষ্টা করে একদল মানুষ। তার জেরেই সংঘর্ষ শুরু হয় দুই গোষ্ঠীর মধ্যে। সংঘর্ষে দুজন হোম গার্ডের মৃত্যু হয়। আহত হন ৭ পুলিসকর্মী। একের পর এক গাড়িতে আগুন লাগানো হয়। এলাকায় চলে পাথর বৃষ্টি।

প্রায় ২৫০০জন মানুষ গুরগাঁওয়ের কাছে একটি মন্দিরে আশ্রয় নেন।  প্রবল হিংসা ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। সামগ্রিক পরিস্থিতিতে এবার গুরগাঁওতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। ডেপুটি কমিশনার নিশান্ত কুমার যাদব ১৪৪ ধারা জারি করছেন। পুলিস সূত্রে খবর, ৫জনের বেশি জড়ো হলে, অস্ত্র সহ জমায়েত, রাস্তা অবরোধ করলে পুলিস কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

সোমবার হরিয়ানার বেশ কয়েকটি জেলায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হিন্দু ভক্তরা বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মিছিলে অংশ নিয়ে মুসলমানদের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। নুহের খেদলা মোড এলাকার কাছে হিন্দুদের মিছিলটি আটকে দেওয়া হয়। হিন্দু ভক্তদের দিকে ছোঁড়া হয় পাথর। এরপর মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা বেশ কয়েকটি গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ।

যে মসজিদটি জ্বালিয়ে দেওয়া হয় তার কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘আততায়ীরা, যারা মধ্যরাতে তলোয়ার, লাঠি এবং বন্দুক নিয়ে এসেছিল। ২০২১-২২ সালে হিন্দুত্ববাদীদের দ্বারা খোলা জায়গায় নামাজের বিরোধিতা করা হয়। সেই সময় এটি ছিল নতুন গুরুগ্রামের একমাত্র মসজিদ যেখানে আমরা কোনও ঝামেলা বা হুমকি ছাড়াই জামাতে নামাজ পড়তে পারতাম কিন্তু এখন এই মসজিদটিও সাম্প্রদায়িক দ্বারা পুড়িয়ে দেওয়া হল।’