বাংলাদেশে থামছে না সংখ্যালঘু নিধন! প্রথমে মারধর, পরে বিষ খাইয়ে খুন করা হল হিন্দু যুবককে

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: হিংসার আগুনে জ্বলছে বাংলাদেশ (Bangladesh), আর সেই আগুনে বারবার ঝলসে উঠছে সংখ্যালঘুদের জীবন। পদ্মাপারের দেশে ফের এক হিন্দু যুবক খুনের অভিযোগ সামনে এল। সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা জয় মহাপাত্রকে মারধরের পর বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর পরিবারের। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে সিলেটের MAG ওসমানি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা চললেও শেষরক্ষা হয়নি, সেখানেই মৃত্যু হয় জয়ের।

বাংলাদেশের (Bangladesh) ফের খুন এক হিন্দু যুবক

পরিবারের দাবি, স্থানীয় এক ব্যক্তি প্রথমে জয় মহাপাত্রকে মারধর করে এবং পরে জোর করে বিষ খাইয়ে দেয়। কী কারণে এই হামলা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার পর গুরুতর অবস্থায় জয়কে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও অবস্থার অবনতি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

আরও পড়ুন:আগামী মাসেই বাংলাদেশে নির্বাচন! তার আগে ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ভারতের

২০২৪ সালের ৫ অগস্ট প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর থেকেই উত্তাল বাংলাদেশ। সেই সময় থেকেই হিন্দু-সহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়ি, দোকান ও উপাসনালয়ে হামলার অভিযোগ উঠতে থাকে। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেয় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি খুন হওয়ার পর। তার পর থেকেই একের পর এক হিংসার ঘটনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা দেশে।

এই হিংসার আবহেই সম্প্রতি একাধিক হিন্দু যুবকের মৃত্যু হয়েছে। আগে হিন্দু যুবক দীপু দাসকে মারধর করে জীবন্ত জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তার পর দিন কয়েক আগেই চোর সন্দেহে জনতার তাড়া খেয়ে পালাতে গিয়ে মৃত্যু হয় মিঠুন সরকার নামে বছর ২৫-এর এক হিন্দু যুবকের। প্রাণ বাঁচাতে তিনি একটি খালে ঝাঁপ দেন এবং সেখানেই ডুবে মৃত্যু হয় তাঁর। একের পর এক ঘটনায় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

Another Hindu youth has been murdered in Bangladesh.

আরও পড়ুন:বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন! পূর্ব মেদিনীপুরের এই জায়গায় সামরিক ঘাঁটি তৈরি করছে ভারত

শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। তবে সরকার গঠনের পরেও হিংসা থামেনি বলে অভিযোগ। শান্তির বার্তা দিলেও সংখ্যালঘুদের উপর হামলা রুখতে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না বলেই অভিযোগ উঠছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন। তার আগেই একের পর এক হিন্দু খুনের ঘটনায় মহম্মদ ইউনূসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে—এই নীরবতার দায় কার, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে পদ্মাপারের দেশে।