সন্দেশখালির ঘটনায় চুপ অপর্না, কৌশিকরা! ‘কলকাতার বুদ্ধিজীবীরা নির্লজ্জ’, বলছে অপর বিশিষ্ট মহল

বাংলা হান্ট ডেস্ক : এখনও পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে সন্দেশখালির (Sandeshkhali) বেতাজ বাদশা শেখ শাহজাহান (Sheikh Shahjahan)। তবে জারি করা হয়েছে লুক আউট নোটিশ। এদিকে ইডির (Enforcement Directorate) খানাতল্লাশি শুরু হতেই বুকে বল পেয়েছে ভয়ে সিঁটিয়ে মুখ বন্ধ করে থাকা এলাকার মহিলার। তাদের মুখে অত্যাচারের বর্ননা শুনে যখন শিউরে উঠছে বাংলার আমজনতা, তখন কোথায় শহরের বুদ্ধিজীবীরা? হাথরসের ঘটনায় যাদের কলম কথা বলে, আজ সন্দেশখালির ঘটনায় তাদের কলম চুপ কেন? প্রশ্ন তুলছে আম জনতা।

   

আম জনতার পাশাপাশি একই প্রশ্ন চিত্রশিল্পী সমীর আইচের মুখেও। কলকাতার বুদ্ধিজীবীদের নিশানা করে এইদিন তিনি বলেন, ‘আফশোসের সঙ্গে বলছি, কলকাতার বুদ্ধিজীবীরা এতটাই নির্লজ্জ হয়ে গেলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থে বিক্রি হয়ে গেলেন শাসক দলের কাছে, তাতে আমাদের আন্দোলনের ধারকে অনেকটাই নষ্ট করে দিয়েছে।’ একই সাথে তিনি পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসন কাদের টাকায় চলে? এটা কি দলের টাকায় চলে? নাকি কারও ব্যক্তিগত টাকায় চলে?’

একই রকমভাবে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন লেখিকা বাণী বসু। এইদিন তাকে সন্দেশখালির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এগুলো শোনার পর, এদের কাউকে আর বাঁচিয়ে রাখতে ইচ্ছা করে না। এত ক্রোধের জন্ম এরা দিয়েছে, সেই ক্রোধের আগুনে এদের পুড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু এখনও পুড়ে যাচ্ছে না। এদের সমস্ত অপকর্ম চালু রয়েছে। এটা আমাদের লজ্জা। এসব কীভাবে একটা সভ্য সমাজে এখনও চালু রয়েছে, তা আমি ভেবে পাই না।’

আরও পড়ুন : ‘যথার্থ জায়গায় বলব সব’, সন্দেশখালি থেকে ফিরেই দিল্লির পথে রাজ্যপাল, জল্পনা চরমে

এর আগে একাধিক ঘটনায় রাস্তায় নেমে যারা প্রতিবাদ করেছেন তাদের মধ্যে একজন চলচিত্র পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তীও। তিনিও কি এখন বাকিদের মত গা ঢাকা দিলেন? যদিও সাফাই দিয়ে তিনি বললেন, ‘আমি তো একা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করতে পারব না। সবাইকে মিলে এগিয়ে যেতে হয়। মহিলাদের যে মন্তব্যগুলি দেখছি, তা সত্যিই খুব দুঃখজনক। এটা না হওয়াই বাঞ্ছনীয়।’

আরও পড়ুন : ‘ফার্স্ট ইয়ারে পড়াকালীন মাইনে ছিল ৬০ টাকা’, দিদিমণিবেলার গল্প শোনালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা

নাট্য পরিচালক রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্তর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি আবার বলেন, ‘সব জায়গাতেই এরকম গোলমাল হচ্ছে। সন্দেশখালি তারই একটা প্রতিফলন। সন্দেশখালির ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক, কিন্তু এটা হওয়ারই ছিল।’ যদিও এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি অপর্না সেন, ঋদ্ধি সেন, বা কৌশিক সেনের মত সমাজের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীদের তরফ থেকে। তারপর থেকেই নেটিজনদের প্রশ্ন, ‘যারা গাজার দূর্দশা নিয়ে প্রতিবাদ করতে পারেন তারা সন্দেশখালির এই নৃশংসতায় চুপ কেন? নাকি ঘরের সামনে ঘটে যাওয়া ঘটনা বলে তাতে আমল দিতে নেই?’ কেউ কেউ তো আবার ব্যাঙ্গ করে বলছে, ‘আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে কথা বললে চর্চা বাড়ে, সন্দেশখালির আদিবাসী মহিলাদের দুঃখ দুর্দশার কাহিনীতে সেই টিআরপি কই? তাই তো মুখে কুলুপ এঁটেছেন কলকাতা শহরের বুদ্ধিজীবী মহল।’