করেছেন MBA, ছেড়েছেন কর্পোরেট চাকরি! রামলালার মূর্তি বানানো যোগীরাজের পরিচয় জেনে গর্ব হবে

বাংলা হান্ট ডেস্ক: ইতিমধ্যেই রাম মন্দিরের (Ram Mandir) গর্ভগৃহের জন্য রামলালার মূর্তি নির্বাচন করা হয়েছে। এমতাবস্থায়, মন্দিরের গর্ভগৃহে রামলালার ৫১ ইঞ্চির মূর্তি স্থাপন করা হবে। এর জন্য দেশের বিখ্যাত ভাস্কর অরুণ যোগীরাজের (Arun Yogiraj) তৈরি ভগবানের শৈশব রূপের প্রতিমা নির্বাচন করা হয়েছে। এমনটাই জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী। এছাড়াও, কর্ণাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রবীণ বিজেপি নেতা বিএস ইয়েদিউরপ্পাও জানিয়েছেন যে, ভাস্কর অরুণ যোগীরাজের তৈরি মূর্তিটি প্রাণ প্রতিষ্ঠার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।

   

এদিকে, রাম মন্দিরের জন্য নির্বাচিত রামলালার মূর্তি নিয়ে যতটা আলোচনা চলছে ঠিক সেইভাবেই ওই মূর্তি যাঁর হাতে তৈরি সেই যোগীরাজ অরুণও উঠে এসেছেন খবরের শিরোনামে। জানা গিয়েছে, তিনি এমন একটি পরিবার থেকে উঠে এসেছেন যাঁদের পূর্বপুরুষেরাও মূর্তি তৈরি করতেন।

অরুণ যোগীরাজ কে: এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি যে, অরুণ বিখ্যাত ভাস্কর যোগীরাজ শিল্পীর ছেলে। যিনি মহীশরের প্রাসাদের কারিগরদের পরিবারের সদস্য। অরুণের বাবা গায়ত্রী ভুবনেশ্বরী মন্দিরের জন্যও কাজ করেছেন। এমনতাবস্থায়, যোগীরাজ হলেন তাঁর পরিবারের পঞ্চম প্রজন্মের ভাস্কর। তাঁর পিতামহ বাসবন্ন শিল্পী তৎকালীন মহীশূর রাজ্যের রাজার সান্নিধ্য পেয়েছিলেন।

Arun Yogiraj surprised everyone by making the idol of Ramlala

তবে, সবথেকে অবাক করা বিষয় হল, অরুণ যোগীরাজ কিন্তু প্রথম থেকে তাঁর পূর্বপুরুষের কাজ অর্থাৎ মূর্তি তৈরির সাথে যুক্ত ছিলেন না। বরং, তিনি এমবিএ করে এবং কর্পোরেট চাকরির সাথে যুক্ত ছিলেন। যদিও, তিনি অল্প সময়ের জন্য সেই চাকরি করেছিলেন। ২০০৮ সালে অরুণ তাঁর কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে দেন এবং ভাস্কর্য তৈরির প্রতি তাঁর আবেগকে প্রাধান্য দিয়ে পূর্বপুরুষের কাজে যোগ দেন। বর্তমানে তাঁকে দেশের বিখ্যাত ও সুপরিচিত ভাস্করদের মধ্যে অন্যতম একজন হিসেবে বিবেচিত করা হয় এবং তাঁর তৈরি একাধিক বিখ্যাত ভাস্কর্যও রয়েছে।

আরও পড়ুন: পাত্তা পেলেন না মাস্ক-আম্বানি! বছরের প্রথম দিনেই বাজিমাত আদানির, লাফিয়ে বাড়ল সম্পদের পরিমাণ

জানিয়ে রাখি যে, ইন্ডিয়া গেটের কাছে অমর জওয়ান জ্যোতির পেছনে অবস্থিত নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর মূর্তিটিও তৈরি করেছেন অরুণ যোগীরাজ। সেটি ছিল একটি ১২ ফুট উঁচু মূর্তি। এছাড়াও, অরুণ মহীশূরে ২১ ফুট উঁচু হনুমান মূর্তিও নিজের হাতে খোদাই করেছেন। পাশাপাশি, তিনি কেদারনাথে আদি শঙ্করাচার্যের ১২ ফুট উঁচু মূর্তিও তৈরি করেছেন। এগুলি ছাড়াও, যোগীরাজ মহারাজা জয়চামরাজেন্দ্র ওডেয়ারের একটি ১৪.৫ ফুট সাদা মার্বেলের মূর্তি এবং মহারাজা শ্রীকৃষ্ণরাজা ওয়াদেয়ার-IV ও স্বামী রামকৃষ্ণ পরমহংসের একটি সাদা মার্বেল মূর্তি তৈরি করেছেন।

আরও পড়ুন: নতুন বছরেই জারি নয়া নিয়ম! সুনকের ঘোষণায় ব্রিটেনে থাকা ভারতীয়রা পেলেন বড় ঝটকা

কি জানিয়েছেন তিনি: সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর সাথে কথা বলার সময়ে যোগীরাজ জানিয়েছেন যে, তিনি যে মূর্তি তৈরি করেছিলেন তা গ্রহণ করা হয়েছে কিনা সে সম্পর্কে তিনি এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাননি।তাঁর মতে, তিনি শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র কর্তৃক “রামলালা”-র মূর্তি খোদাই করার জন্য নির্বাচিত তিনজন ভাস্করদের মধ্যে একজন ছিলেন। তিনি জানান, “আমি খুশি যে আমি দেশের তিনজন ভাস্করদের মধ্যে ছিলাম যাঁরা রামলালার মূর্তি খোদাই করার জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।” যোগীরাজ এটাও বলেন যে, “মূর্তিটি একটি শিশুর মতো করে তৈরি করতে হত, যিনি হলেন দৈব। কারণ এটি ঈশ্বরের অবতারের মূর্তি। যাঁরা মূর্তি দেখবেন তাঁদের ঐশ্বরিক অনুভূতি অনুভব করা উচিত।”