যেকোনও মুহূর্তে ইরানের ওপর হতে পারে মার্কিন আক্রমণ! কী প্রভাব পড়বে ভারতের অর্থনীতিতে?

Published on:

Published on:

At any moment, the US may attack Iran.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ইরানে (Iran) সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতার বিক্ষোভ চলছে। এমতাবস্থায়, ইরানের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং মুদ্রার মূল্য হ্রাসের কারণে সেখানকার সাধারণ মানুষ অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। এদিকে এই বিক্ষোভে ৭০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। প্রথমদিকে, দেশের জনসাধারণ খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধি এবং দেশের উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে চিন্তিত ছিল। কিন্তু এখন, সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান উঠছে। এটাও মনে করা হচ্ছে যে, আমেরিকা ইরানে আক্রমণ করতে পারে। যদি এটি ঘটে, তাহলে এর প্রভাব ভারতেও পড়বে। উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল এবং এখন তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে উদ্ধৃত করে নিউ ইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে যে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে হামলার প্রাথমিক পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। যার মধ্যে রয়েছে ইরানের একাধিক স্থানে বৃহৎ পরিসরে বিমান হামলা চালানোর অপশন। এমনকি, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের কোন কোন স্থানে আক্রমণ করা উচিত তাও বিবেচনা করছে বলেও জানা গিয়েছে। এদিকে, ভারত ও ইরানের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক অত্যন্ত শক্তিশালী। প্রথমে ইরানের বিক্ষোভ এবং তারপর মার্কিন আক্রমণ সম্পন্ন হলে সামগ্রিক বিষয়ে ভারতকেও প্রভাবিত করতে পারে।

ভারতের কাছে ইরান (Iran) কেন গুরুত্বপূর্ণ:

জানিয়ে রাখি যে, ভারতের কাছে, ইরান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু আঞ্চলিক সংযোগ রুটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। অতএব, তেহরানের স্থিতিশীলতা সরাসরি ভারতের কৌশলগত এবং বাণিজ্যিক স্বার্থের সঙ্গে জড়িত।
মধ্য এশিয়া থেকে শুরু করে রাশিয়া এবং ইউরোপের সঙ্গে যোগাযোগ গভীর করার জন্য ভারত বেশ কয়েকটি প্রকল্পে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। ইরান এই প্রকল্পগুলির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট হাব হিসেবে বিবেচিত হয়। যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ইরানের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত চাবাহার বন্দর। এই বন্দরটি পাকিস্তানকে এড়িয়ে ভারতকে আফগানিস্তান এবং মধ্য এশিয়ায় সরাসরি যোগাযোগের পথ করে দেয়।

At any moment, the US may attack Iran.

INSTC-ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: শুধুমাত্র ইরানের চাবাহার বন্দর নয়, বরং ইন্টারন্যাশনাল নর্থ-সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডোর তথা INSTC-ও ভারতের আঞ্চলিক বাণিজ্য কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি একটি বহুমুখী বাণিজ্য নেটওয়ার্ক যা। ইরানের মাধ্যমে ভারতকে রাশিয়া এবং ইউরোপের সঙ্গে সংযুক্ত করে। শুধু তাই নয়, INSTC দীর্ঘ এবং ব্যয়বহুল সমুদ্র পথের ওপর ভারতের নির্ভরতা হ্রাস করে। এমন পরিস্থিতিতে, চাবাহার বন্দর এবং INSTC, ২ টি প্রকল্পই ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন: যাঁর কোচিংয়ে গড়েছিলেন নজির, ছোটবেলার সেই হিরোর সঙ্গেই বিচ্ছেদ নীরজ চোপড়ার, নিলেন বড় সিদ্ধান্ত

দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক: বাণিজ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ভারত-ইরানের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আনুমানিক ১.৬৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। যার মধ্যে, ভারত ১.২৪ বিলিয়ন ডলারের রফতানি করেছে এবং ০.৪৪ বিলিয়ন ডলার আমদানি করেছে। যার ফলে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত (সারপ্লাস) হয়েছে ০.৮০ বিলিয়ন ডলার।
সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত ইরানের শীর্ষ ৫ টি বাণিজ্যিক অংশীদারের মধ্যে অন্যতম একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভারত থেকে ইরানে প্রধান রফতানি করা পণ্যগুলির মধ্যে রয়েছে চাল, চা, চিনি, ওষুধ, কৃত্রিম তন্তু, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি এবং কৃত্রিম গহনা।
এদিকে, ইরান থেকে ভারতের প্রধান আমদানি করা জিনিসগুলির মধ্যে রয়েছে শুকনো ফল, অজৈব/জৈব রাসায়নিক, কাচের জিনিসপত্র ইত্যাদি।

আরও পড়ুন: এবারের T20 বিশ্বকাপে সৌরভ গাঙ্গুলির ফেভারিট দল কোনটি? টিম ইন্ডিয়ার প্রসঙ্গে করলেন ভবিষ্যদ্বাণী

ভারতের ওপর প্রভাব: জানিয়ে রাখি যে, বর্তমানে ইরানে চলমান বিক্ষোভ এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার বিষয়টি ভারতের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাত ফেলতে পারে। চাবাহার বন্দর এবং INSTC-র মতো প্রকল্পগুলি ভারতকে মধ্য এশিয়া এবং ইউরোপের সঙ্গে সংযুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভারত এই প্রকল্পগুলিতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগও করেছে। এমতাবস্থায়, ইরানে অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পেলে, এই প্রকল্পগুলির কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। এর ফলে ভারতের বাণিজ্য ও লজিস্টিক্সের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাছাড়া, যদি আমেরিকা সত্যিই ইরানে আক্রমণ করে, সেক্ষেত্রে এই আশঙ্কা সত্যিও হতে পারে।