দাহ করতে এসেছিলেন… শেষ পর্যন্ত নিজেই লাশ! বহরমপুরে চাঞ্চল্য

Published on:

Published on:

Baharampur a young man was killed in a clash between two groups at a crematorium
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: শনিবার রাতে বহরমপুরের (Baharampur) খোলাবাজার শ্মশানঘাটে দেহ দাহ করাতে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, শ্মশান ঘাটে দেহ সৎকার করতে এসে বাঁশের আঘাতে খুন করা হয়েছে এক যুবককে। যুবকের নাম জয়ন্ত ঘোষ। বয়স ৩০। বাড়ি ডোমকল থানার অন্তর্গত চাঁদপুর ঘোষপাড়ায়। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বহরমপুরে শ্মশানঘাটে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত যুবক (Baharampur)

সূত্রের খবর, শনিবার রাতে প্রতিবেশীর দেহ সৎকার করতে বহরমপুর (Baharampur) গোরাবাজার শ্মশান ঘাটে এসেছিলেন জয়ন্ত ঘোষ সহ মৃতের পরিবারের বেশ কয়েকজন আত্মীয়। জানা যায় সেই সময় শ্মশান ঘাটে থাকা কয়েকটি দেহের মধ্যে কোনটি আগে সৎকার করা হবে তা নিয়ে বচসার সৃষ্টি হয়। সেই বচসার থেকে আচমকা হাতাহাতি সৃষ্টি হয়। তারপরই কয়েকজন পিছন থেকে বাঁশ দিয়ে জয়ন্তকে মাথায় আঘাত করে বলে অভিযোগ ওঠে। আঘাতের ফলে ঘটনাস্থলে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মৃত্যু হয় বছর ৩০ এর জয়ন্ত ঘোষের। জয়ন্ত কে বাঁচাতে গিয়ে আহত হন প্রান্তিক ও চিরঞ্জিত নামের তার দুই বন্ধু।

Baharampur a young man was killed in a clash between two groups at a crematorium

আরও পড়ুন: যাত্রীদের জন্য বড় খবর! ঘন কুয়াশার জেরে কলকাতা-হাওড়া-সহ বহু ট্রেন বাতিল

বর্তমানে তারা মুশিদাবাদ মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। ‌এই ঘটনায় মৃত জয়ন্ত ঘোষের আত্মীয় পিন্টু ঘোষ জানান, “রবীন দাস নামে ডোমকলের চাঁদপুর ঘোষপাড়ার এক বাসিন্দার মৃতদেহ সৎকার করতে আমরা শনিবার রাতে বহরমপুরের গোরাবাজার শ্মশান ঘাটে যাই। সৎকারের জন্য কলাবেড়িয়া গ্রাম থেকে একটি দেহ নিয়ে আসা অন্য এক পক্ষের সঙ্গে আমাদের সঙ্গে থাকা কয়েকজনের বচসা হয়। তারপর সব মিটমাটও হয়ে যায়।

কিন্তু আমরা যখন দেহ নিয়ে শ্মশানে অপেক্ষা করছিলাম, তখন জয়ন্ত তাঁর দু’জন সঙ্গীকে নিয়ে শ্মশান থেকে কিছুটা দূরে চায়ের দোকানে চা খেতে গিয়েছিল। তখনই পিছন থেকে কয়েকজন যুবক এসে জয়ন্তকে মাথায় বাঁশ দিয়ে আঘাত করে। সেই আঘাতে সেখানেই লুটিয়ে পড়ে জয়ন্ত। পাশাপাশি এই ফলে আহত হয় তার দুই সঙ্গী। এই ঘটনা জানাজানি হতেই আমরা ঘটনাস্থলের ছুটে যাই। সঙ্গে সঙ্গে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজন মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজের নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা জয়ন্তকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

মৃত জয়ন্ত ঘোষের ভগ্নিপতি চিন্ময় ঘোষ জানান, জয়ন্ত একেবারেই নিরীহ ছেলে। পাড়ায় তার যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। রবীন্দ্র নামে যে ব্যক্তির দেহ সৎকার করতে নিয়ে আসা হয়েছিল সে জয়ন্তর আত্মীয় নয় বরং প্রতিবেশী। কোনরকম কারণ ছাড়াই নেশাগ্রস্ত কিছু যুবক জয়ন্তকে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে খুন করেছে। তারা খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছেন। যদিও এই ঘটনার ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে বহরমপুর (Baharampur) থানার পুলিশ। তবে এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানা গিয়েছে।