বাংলাহান্ট ডেস্ক:-ভারতের সীমান্ত সংলগ্ন একাধিক স্থলবন্দর বন্ধের সিদ্ধান্ত নিল বাংলাদেশ (Bangladesh)। মোট তিনটি স্থলবন্দরকে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি আরও একটি বন্দরের কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। ঢাকা(Dhaka) জানাচ্ছে, এই বন্দরগুলিকে ‘নিষ্ক্রিয়’ ও ‘লাভজনক নয়’ বলেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রায় দশ মাস আগে বাংলাদেশের একটি সরকারি কমিটি এই বন্দরগুলিকে অকার্যকর হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। অবশেষে সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবার ঢাকায় ইউনূসের (Mohammad Yunus) অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়।
বাংলাদেশের তিন স্থলবন্দর বন্ধ (Bangladesh)
যে তিনটি স্থলবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, তার মধ্যে দুটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তে অবস্থিত। এর মধ্যে রংপুরের নীলফামারির চিলাহাটি স্থলবন্দর কোচবিহারের হলদিবাড়ি সীমান্তের লাগোয়া, আর চুয়াডাঙার দৌলতগঞ্জ বন্দর নদিয়ার মাজদিয়া সীমান্তের কাছাকাছি। এ ছাড়া রাঙামাটির তেগামুখ স্থলবন্দরও পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি হবিবগঞ্জের বাল্লা স্থলবন্দরের কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাল্লা বন্দর ত্রিপুরা সীমান্তের কাছে অবস্থিত।
আরও পড়ুন:-প্রধানমন্ত্রী মোদীর কাজে কতটা সন্তুষ্ট দেশের মানুষ? সমীক্ষায় উঠে এল বড় তথ্য
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বন্দরগুলিতে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানোর মতো উপযুক্ত অবকাঠামো নেই। অথচ সরকারি কর্মীদের সেখানে পদায়ন করা হয় এবং অব্যবহৃত অবস্থায়ও খরচ হয়ে যায় জনগণের করের টাকা। সেই অতিরিক্ত ব্যয় কমানোর জন্যই স্থলবন্দর বন্ধ বা স্থগিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের জানান, ‘‘দেশের অধিকাংশ স্থলবন্দর কার্যত নিষ্ক্রিয়। পরিকাঠামোর অভাবে সেগুলি চালানো সম্ভব নয়। অথচ প্রশাসনিকভাবে খরচ বাড়তেই থাকে। তাই বাধ্য হয়েই এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।’’ তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, অতীতে রাজনৈতিক কারণে সীমান্ত এলাকায় একাধিক স্থলবন্দর অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু প্রত্যাশিত ব্যবসা সেখানে গড়ে ওঠেনি। ফলে এই প্রকল্পগুলি শেষ পর্যন্ত অপ্রয়োজনীয় প্রমাণিত হয়েছে।
যে বন্দরের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে, সেই হবিবগঞ্জের বাল্লা বন্দরে কিছু পরিকাঠামো নির্মিত হলেও সমস্যা রয়েছে ভারতীয় অংশে। ঢাকার নৌপরিবহণ মন্ত্রকের দাবি, ওই সীমান্তে ভারতের দিকে কোনও উপযুক্ত পরিকাঠামো তৈরি হয়নি, এমনকি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাও কার্যকর নয়। তাই আপাতত কার্যক্রম স্থগিত রাখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এছাড়া আরও চারটি স্থলবন্দর বন্ধ করার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলেও জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন:-প্রধানমন্ত্রীর মাকে কুকথা! রাহুলের বিরুদ্ধে তোপ দেগে মোদীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি অমিত শাহের
স্থলবন্দরগুলির মাধ্যমে ভারত এবং বাংলাদেশ একে অপরের সঙ্গে পণ্যের লেনদেন চালায়। শুধু ভারত নয়, নেপাল ও ভুটানেও পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে এই বন্দরগুলির ভূমিকা রয়েছে। যদিও বিশেষজ্ঞদের মত, বাংলাদেশ তিনটি স্থলবন্দর বন্ধ করে দেওয়ায় ভারতের বাণিজ্যের উপর তেমন কোনও প্রভাব পড়বে না। এর আগে চলতি বছরের মে মাসে ভারত সরকার স্থলপথে বাংলাদেশের একাধিক পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করেছিল। রেডিমেড পোশাক, ফল, সুতো, কাঠের আসবাবপত্রের মতো বহু পণ্য আর ভারতের বাজারে প্রবেশ করতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একাধিক স্থলবন্দর বন্ধের সিদ্ধান্তকে অনেকেই সরকারের খরচ সাশ্রয়ের কৌশল হিসেবেই দেখছেন।