বাংলাহান্ট ডেস্ক: বাংলাদেশি ফাস্ট বোলার মুস্তাফিজুর রহমানকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে (Bangladesh) ভারত-বিরোধী আবেগ ও বিতর্কের নতুন ঢেউ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে কিছু মহল থেকে আইপিএলের সম্প্রচার বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করার দাবিও শোনা যাচ্ছে। ক্রীড়াঙ্গনের এই ঘটনাটি রাজনৈতিক রূপ নিলেও, বাস্তব ক্ষেত্রে ভারতের সাথে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নির্ভরতার গভীরতা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একই সময়ে বাংলাদেশ সরকার ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ চাল ও পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যকার অত্যাবশ্যকীয় বাণিজ্যিক সম্পর্কের স্বাক্ষর বহন করে।
ভারতের থেকে ফের চাল আমদানি করছে বাংলাদেশ (Bangladesh):
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশ ভারত থেকে মোট এক লক্ষ মেট্রিক টন চাল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। প্রথম ধাপে প্রতি কেজি ৪৩ টাকা ৫১ পয়সা দরে ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় ধাপে প্রতি কেজি ৪৪ টাকা ১ পয়সা দরে আরও ৫০ হাজার মেট্রিক টন নন-বাসমতি সেদ্ধ চাল আমদানি করতে যাচ্ছে ঢাকা। পাশাপাশি, দেশের বাজারে পেঁয়াজের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে আগামী ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার টন পেঁয়াজ ভারত থেকে আমদানির পথও খোলা রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ৫,৬০০ টাকায় শুরু ব্যবসা, আজ গড়েছেন ৪২০ কোটির সংস্থা, Shark Tank India-র বিচারক হলেন কণিকা
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও তা দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে না। তিনি মুস্তাফিজের বিষয়টিকে দুঃখজনক আখ্যা দিলেও এ কথাও উল্লেখ করেন যে, রাজনৈতিক উত্তেজনা যেন অর্থনীতিতে সরাসরি আঘাত না হানে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, সরকার ভালো করেই জানেন, বাণিজ্যিক সম্পর্কে বিঘ্ন ঘটলে বাংলাদেশই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এদিকে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-বিরোধী বক্তব্য ও প্রচারণা জোরালো হয়েছে। মুস্তাফিজের আইপিএল থেকে বাদ পড়াকে বাংলাদেশের হিন্দুদের উপর অত্যাচারের ঘটনার প্রতি ভারতের পাল্টা জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে কিছু মহলে। এর প্রেক্ষিতেই ভারতীয় পণ্য বয়কট থেকে শুরু করে ভারতীয় নাগরিকদের ওয়ার্ক পারমিট বন্ধ করার মতো কঠোর আহ্বানও উঠেছে। আইপিএলের সম্প্রচার নিষিদ্ধের দাবিও এই আবেগেরই একটি বহিঃপ্রকাশ।

আরও পড়ুন: ঘরোয়া রান্নায় নতুন স্বাদ, নতুন আলুতে আচারি দম আলু; জানুন সহজ এই রেসিপিটি
তবে সব কট্টর বক্তব্যের বিপরীতে রয়েছে বাংলাদেশের বাস্তব অর্থনৈতিক চাহিদা। দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বিশেষত চাল ও পেঁয়াজের বাজারে সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে ভারতের উপর নির্ভরতা এখনও অত্যন্ত প্রকট। রাজনৈতিক বা আবেগী বক্তব্যে ভারত বয়কটের ডাক উঠলেও, খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্নে বাংলাদেশ সরকারকে বারবার ভারতের দিকেই ফিরে তাকাতে হচ্ছে। এই অর্থনৈতিক বাস্তবতাই প্রমাণ করে যে, ক্রিকেট বা রাজনৈতিক উত্তাপ যতই থাকুক, বাংলাদেশের টেকসই খাদ্য সরবরাহ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ভারতের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা এক অপরিহার্য কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।












