শুধু চাল নয়! এবার কোটি কোটি টাকা খরচ করে ভারত থেকে ‘এটাও’ কিনছে বাংলাদেশ

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: বাংলাদেশে (Bangladesh) ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভারত-বিরোধী আবেগ ও বিক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে। বাংলাদেশ সরকার প্রথমে ঘোষণা করে যে তারা ভারতে আয়োজিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে না এবং এরপর দেশটিতে আইপিএলের সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে এই ধরনের ভারত-বিরোধী বক্তব্য ও পদক্ষেপের নজির গত কয়েক মাসে একাধিকবার দেখা গেছে, যার মধ্যে ওসমান হাদির মৃত্যুতে সহিংস বিক্ষোভও অন্তর্ভুক্ত।

ভারতের থেকে এবার জ্বালানিও কিনবে বাংলাদেশ (Bangladesh)!

তবে এই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই অর্থনৈতিক বাস্তবতার এক ভিন্ন চিত্র ফুটে উঠেছে। বাংলাদেশের মুহাম্মদ ইউনুস সরকার ভারতের নুমালীগড় রিফাইনারি লিমিটেড-এর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল কেনার চুক্তি অনুমোদন করেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এই ক্রয়ের জন্য প্রায় ১,৪৬১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা (বাংলাদেশি মুদ্রা) বরাদ্দ করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ভারত থেকে মোট ১ লক্ষ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করা হবে।

আরও পড়ুন: যুদ্ধক্ষেত্রে ভারতীয় সেনার শক্তি বাড়বে আরও বহুগুণ! পিনাকার বিকল্প হতে চলেছে সুপার রকেট ‘সূর্যাস্ত্র’

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এই চুক্তির বিষয়ে স্পষ্ট করেছেন যে, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির অধীনস্থ ক্রয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নুমালীগড় রিফাইনারির সাথে ১৫ বছর মেয়াদের এই চুক্তি পূর্ববর্তী সরকারের সময়েই স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং বর্তমান সরকার কেবল সেই চুক্তি অনুসরণ করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ ভারত ছাড়াও চীন, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে জিটুজি মেয়াদি চুক্তির ভিত্তিতে জ্বালানি তেল আমদানি করে থাকে।

এই ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে ভারত-বিরোধী রাজনৈতিক বক্তব্যের সাথে দেশটির অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জরুরি চাহিদার মধ্যকার ফারাকটিকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। একদিকে যখন ক্রীড়া ও রাজনৈতিক ইস্যুতে তিক্ততা বাড়ছে, অন্যদিকে জ্বালানির মতো কৌশলগত সম্পদের জন্য বাংলাদেশকে ভারতের মতো প্রতিবেশী দেশের উপরই নির্ভরশীল থাকতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি জটিল দ্বন্দ্ব তৈরি করেছে।

Bangladesh will now buy fuel from India as well!

আরও পড়ুন:পিছিয়ে পড়ল চিনও! বিশ্বের শীর্ষ চাল উৎপাদক দেশ হয়ে উঠল ভারত, চমকে দেবে পরিসংখ্যান

সামগ্রিকভাবে, এই ঘটনাটি বাংলাদেশের বৈদেশিক ও অর্থনৈতিক নীতির মধ্যে থাকা সূক্ষ্ম ভারসাম্যের প্রতিফলন। এটি প্রমাণ করে যে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও জনমতের চাপ সত্ত্বেও, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অত্যাবশ্যকীয় অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো প্রায়শই ব্যবহারিক চাহিদা ও পূর্বের চুক্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা যে এখনও অপরিহার্য, সূর্যাস্ত্র প্রকল্পের মতো সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা চুক্তিও সেই ভারতীয় প্রযুক্তি ও উৎপাদনের উপর নির্ভরশীলতা নির্দেশ করে।