সুদানের গৃহযুদ্ধে আটকে ৪০০০ ভারতীয়! কীভাবে উদ্ধার করবে ভারত? সামনে কড়া চ্যালেঞ্জ

বাংলাহান্ট ডেস্ক: আফ্রিকার দেশ সুদানের (Sudan) রাজনৈতিক এবং সামাজিক অবস্থা একেবারেই ভাল নয়। সেখান এক ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ লেগে রয়েছে। এই মুহূর্তে সুদানের রাস্তায় গাড়ির পরিবর্তে দেখা যাচ্ছে ট্যাঙ্ক এবং সেনাবাহিনীকে। আকাশে পাখির পরিবর্তে উড়ছে যুদ্ধবিমান। সংবাদসংস্থা সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত ২৭০ জন এই যুদ্ধের বলি হয়েছেন। পাশাপাশি গুরুতর আহত ২৬০০ জন। অবস্থা এতটাই খারাপ যে হাসপাতালেও ক্ষেপনাস্ত্র নিক্ষেপ করা হচ্ছে। সুদানের সামরিক এবং আধা-সামরিক বাহিনীর মধ্যে গৃহযুদ্ধ চলছে। 

   

এই যুদ্ধের ফলে সাধারণ মানুষের চরম দুর্দিন শুরু হয়েছে। সামরিক বাহিনীর মধ্যে এই যুদ্ধে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সুদানের রাজধানী খারতুমে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা চলছে। একাধিক হাসপাতাল ও স্কুলে বোমা ও বিমান হামলা হয়েছে। এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সুদানে আটকে রয়েছেন ৪০০০ ভারতীয় (Indians)। এমন ভয়ানক পরিস্থিতিতে ওই ৪০০০ ভারতীয়কে কী ভাবে সেখান থেকে বের করে আনা হবে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত সরকার। কী কী সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে ভারতকে? দেখে নিন।

sudan civil war

সুদানে ভারতীয় দূতাবাসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৪০০০ ভারতীয়ের অধিকাংশই চারটি শহরে বসবাস করেন। এই শহরগুলি হল ওমদুরমান, কাসালা, আল কাদারিফ এবং ওয়াদ মাদানি। এর মধ্যে খারতুম থেকে দু’টি শহরের দূরত্ব ৪০০ কিলোমিটারেরও বেশি। পাশাপাশি, একটি শহর রাজধানী থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে। বাকি একটি শহরের দূরত্ব খারতুম থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার। সুদানে মাত্র দু’টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে। একইসঙ্গে বিমান হামলার মধ্যে মানুষকে এয়ারলিফট করাও কঠিন। 

একমাত্র যুদ্ধবিরতি হলে এই কাজ করা সম্ভব। কিন্তু দুই বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ থামার নামই নিচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে ওমদুরমান থেকে ভারতীয়দের উদ্ধার করা খুবই কঠিন। এই শহরটি রাজধানী খারতুম থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কিন্তু খারতুমে আধা-সামরিক বাহিনী সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। ভারতীয় দূতাবাসের তরফে সুদানের ভারতীয়দের বাড়ি থেকে বেরোতে নিষেধ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধ না থামলে ভারতীয়দের উদ্ধার করা খুবই মুশকিল।

এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকারের বক্তব্য কী? কী পদক্ষেপ করছে তারা? প্রথমত, সুদানে আটকে থাকা ভারতীয়দের বাড়ি থেকে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বুধবার বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সৌদি আরবের বিদেশমন্ত্রী ফৈসলবিন ফারহান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিদেশমন্ত্রী আবদুল্লা বিন জায়েদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এরপর টুইট করে তিনি জানান, এই দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীদের সঙ্গে সুদানের বিষয়ে ক্রমাগত কথা বলছেন তিনি।