বিগত ৬ মাসের মধ্যে শেয়ার বাজারে সবচেয়ে বড় পতন! মাত্র ৬ ঘণ্টায় উধাও ৮ লক্ষ কোটি টাকা

Published on:

Published on:

Biggest fall in share market in 6 months, 8 lakh crore rupees disappear.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: সোমবার ভারতীয় শেয়ার বাজারে (Share Market) তীব্র পতন পরিলক্ষিত হয়েছে। মূলত, আমেরিকা ও ইরানের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণে তেলের দাম ও বন্ড ইল্ড বেড়ে যায়। যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এর ফলে সেনসেক্স ও নিফটিতে ১.৬ শতাংশের পতন ঘটে। এই পতনের ফলে সেনসেক্স গত ৩০ মার্চের পর প্রথমবারের মতো ৭২,০০০-এর ঘরে পৌঁছয়। এর মানে হল, ভারতের (India) শেয়ার বাজারে প্রায় ৬ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন দেখা গেছে। শেয়ার বাজারের তথ্য অনুযায়ী, সেনসেক্স (Sensex) ১,১২৪ পয়েন্ট কমে ৭২,৮০০-এর নিচে নেমে বন্ধ হয়েছে। অন্যদিকে, নিফটি ৫০-তেও পতন ঘটেছে। এটি ৩৬০ পয়েন্টের বেশি কমে প্রায় ২২,৮০০-এর কাছাকাছি এসে থেমেছে। এমতাবস্থায়, BSE-তে লিস্টেড কোম্পানিগুলির মোট মার্কেট ক্যাপ প্রায় ৮ লক্ষ কোটি টাকা কমে প্রায় ৪৭৪ লক্ষ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

৬ মাসের মধ্যে শেয়ার বাজারে (Share Market) সবচেয়ে বড় পতন!

জানিয়ে রাখি , সেনসেক্সের ৩০ টি কোম্পানির মধ্যে ২৯ টির শেয়ারই লোকসানে বন্ধ হয়েছে। বেঞ্চমার্ক ইনডেক্সে L&T এবং পাওয়ার গ্রিডের শেয়ারের দর সবচেয়ে বেশি কমেছে। যা প্রায় ৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এছাড়াও, HDFC ব্যাঙ্ক থেকে শুরুকরে হিন্দুস্তান ইউনিলিভার, আদানি পোর্টস, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ এবং SBI-এর শেয়ারের দরও ২ শতাংশের বেশি কমেছে। এই প্রবণতার বিপরীতে, ইনফোসিসই একমাত্র স্টক, যা বৃদ্ধির সঙ্গে বন্ধ হয়েছে। মূলত, বাজারে ব্যাপক বিক্রি শুরু হয়, যার ফলে নিফটি স্মলক্যাপ ১০০ এবং নিফটি মিডক্যাপ ১০০ ইনডেক্স প্রায় ২ শতাংশ কমে যায়। বাজারের অস্থিরতা পরিমাপকারী সূচক ইন্ডিয়া ভিক্স প্রায় ১২ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১৪-তে পৌঁছেছে।

Biggest fall in share market in 6 months, 8 lakh crore rupees disappear.

উল্লেখ্য যে, সমস্ত সেক্টর ইনডেক্স নিম্নমুখী হয়ে বন্ধ হয়েছে। যেখানে নিফটি PSU ব্যাঙ্ক ৩ শতাংশের বেশি এবং নিফটি রিয়েলটি ২ শতাংশের বেশি কমেছে। এছাড়াও নিফটি অটো থেকে শুরু করে নিফটি প্রাইভেট ব্যাঙ্ক, নিফটি ফাইনান্সিয়াল সার্ভিসেস, নিফটি এফএমসিজি, নিফটি মেটাল এবং নিফটি রিয়েলটি ১ শতাংশ থেকে ২ শতাংশের মধ্যে হ্রাস পেয়েছে। সামগ্রিকভাবে, বাজারের মনোভাব ছিল মূলত নেতিবাচক। NSE-তে, ৮৬৯ টি শেয়ারের দাম বৃদ্ধির বিপরীতে ২,৭১৬ টি শেয়ারের দাম কমেছে এবং ৯১ টি শেয়ার অপরিবর্তিত ছিল। শেয়ার বাজারে এহেন পতনের বেশ কয়েকটি প্রধান কারণ রয়েছে। যা রমধ্যে মার্কিন-ইরান উত্তেজনা বৃদ্ধি অন্যতম। এছাড়াও, তেলের দামের বৃদ্ধি, বন্ডের ইল্ড বৃদ্ধি, বিশ্ব বাজারের দুর্বল সঙ্কেত, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রি এবং রুপির দর কমে যাওয়ার বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আরও পড়ুন: আরও স্বচ্ছ হবে পরিষেবা! হাসপাতালের ‘রেটিং’ দেখে ভর্তির সুযোগ রোগীদের, সরকার আনছে নতুন সিস্টেম

শেয়ার বাজারের জন্য পরবর্তী পদক্ষেপ: TV9-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, জিওজিত ইনভেস্টমেন্টসের রিসার্চ হেড বিনোদ নায়ার জানিয়েছেন যে, বাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাইকোলজিক্যাল সাপোর্ট লেভেল ভেঙে ফেলায় দরপতনের প্রত্যাশার আধিপত্য অব্যাহত রয়েছে। গ্লোবাল ম্যাক্রো পরিস্থিতির মধ্যে বিনিয়োগকারীদের ক্রমবর্ধমান সতর্কতাই এটি প্রতিফলিত করে। তিনি বলেছেন যে, আমেরিকার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার ফলে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সময় ধরে চলতে পারে বলে উদ্বেগ বেড়েছে। এর ফলে দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা কমে গেছে এবং দীর্ঘস্থায়ী সরবরাহ বিঘ্ন ও পণ্যমূল্য বৃদ্ধির ঝুঁকি বেড়েছে।

আরও পড়ুন: ০.৪ শতাংশের চার্জে নেই কোনও স্থগিতাদেশ! UPI MDR-এর প্রসঙ্গে কেন্দ্রের বক্তব্য চাইল সুপ্রিম কোর্ট

তাঁর মতে, মার্কিন বন্ডের ক্রমবর্ধমান ইল্ড ভারত-মার্কিন ইল্ড স্প্রেডকে সংকুচিত করছে। যার ফলে বিদেশি ফান্ডের বহির্গমন ঘটতে পারে এবং বাজারের মনোভাব সতর্ক থাকতে পারে। এছাড়াও, ফেড সুদের হার আরও বাড়াবে এমন ক্রমবর্ধমান প্রত্যাশার মধ্যে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা পুনর্মূল্যায়ন করায় বিভিন্ন সেক্টরে শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন। তিনি বলেন যে, RBI-এর আসন্ন নীতিগত সিদ্ধান্তের আগে বাজার অংশগ্রহণকারীরা সতর্ক থাকতে পারেন। এছাড়াও, গ্লোবাল লিকুইডিরটি পরিস্থিতি, বন্ডের আয়ের ওঠানামা, তেলের দাম এবং নীতিগত ইঙ্গিত নিকট ভবিষ্যতে বাজারের মনোভাব নির্ধারণ করবে।