বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বর্তমান সময়ে সরকারি চাকরি (Government Job) জোগাড় করা হাতে চাঁদ পাওয়ার মতো হয়ে গিয়েছে! সেখান থেকে চাকরি পেয়ে তা হারানোর যন্ত্রণা প্রচুর। বৃহস্পতিবার ২০১৬ সালের এসএসসির (SSC Recruitment Scam) সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিল করেছে সুপ্রিম কোর্ট। যার জেরে একধাক্কায় চাকরিহারা হয়ে পড়েছেন প্রায় ২৬,০০০ মানুষ। এই রায়ের ফলে চাকরি খুইয়েছেন বিজেপি (BJP) নেতার দাদা-বৌদিও।
কোন বিজেপি নেতার দাদা-বৌদি চাকরি খোয়ালেন (SSC Recruitment Scam)?
বিজেপির যুব মোর্চার রাজ্য কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য হলেন পিন্টু সাম। বর্ধমান, বীরভূম ও কাটোয়ায় পদ্ম শিবিরের সাংগঠনিক জেলার যুব মোর্চার দায়িত্বেও রয়েছেন পিন্টু। তাঁর দাদা সৌরভ সাম ও বৌদি মৌমিতা কুণ্ডু জলপাইগুড়ির ওদলাবাড়ি হাই স্কুলে পড়াতেন। তবে গতকাল সুপ্রিম কোর্টের রায়ে চাকরিহারা হয়ে পড়েছেন ওই দম্পতি।
জানা যাচ্ছে, গতকাল এসএসসি মামলায় (SSC Recruitment Scam) সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর বিকেলে বর্ধমানে দলের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন পিন্টু। এই বিষয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানার জন্য একটি সংবাদমাধ্যমের তরফ থেকে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে মুখ খুলেছেন বিজেপির জেলা মুখপাত্র সৌম্যরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুনঃ ‘সুযোগ অবশ্যই আছে, কিন্তু…’! রিভিউ পিটিশনে স্বস্তি পাবেন ২৬,০০০ চাকরিহারা? জানালেন আইনজ্ঞরা
পদ্ম নেতা বলেন, ‘রাজ্য সরকার এবং প্রশাসনের চরম ব্যর্থতার জন্য এত জন শিক্ষকের চাকরি গিয়েছে। নিজেদের দুর্নীতি ঢাকতে আদালতের কাছে যোগ্য এবং অযোগ্যদের তালিকা স্পষ্ট করেনি তারা’।
সৌম্যরাজের কথায়, বিজেপি নেতার পরিবারের লোক যোগ্য নাকি অযোগ্য সেটা বিচার করার সুযোগ পাওয়া যায়নি। আগামী দিনে রাজ্য সরকারকে এর দায় নিতে হবে বলে দাবি করেন তিনি। পাল্টা মুখ খুলেছেন তৃণমূলের (Trinamool Congress) রাজ্য মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস।
তৃণমূল নেতা বলেন, ‘শিক্ষকদের চাকরির বিরুদ্ধে সিপিএম ও বিজেপি আদালতে গিয়েছে। তারাই বারবার তৃণমূলের বিরুদ্ধে নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ করেছে। তবে সেখানে দাঁড়িয়ে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি নেতার পরিবারের লোকজনও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। এখান থেকেই বোঝা যাচ্ছে দুর্নীতির মূল কোন দিকে ছড়িয়ে রয়েছে’।
উল্লেখ্য, দুর্নীতির কারণে গত বছরই ২০১৬ সালের এসএসসির (SSC Recruitment Scam) গোটা প্যানেল বাতিল করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। পরবর্তীতে জল গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট অবধি। এতদিন সেখানেই ঝুলেছিল চাকরিজীবীদের ভাগ্য। গতকাল শীর্ষ আদালতের তরফ থেকেও সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিল করা হয়। যার জেরে চাকরিহারা হয়ে পড়েন প্রায় ২৬,০০০ চাকরিজীবী।