টাইমলাইনপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

‘বুলডোজারের রাজনীতি বাংলায় চলবে না, ক্ষতিপূরণ ছাড়া কাউকে উচ্ছেদ করা যাবে না’, BJP কে চরম হুঁশিয়ারি মমতার

বাংলাহান্ট ডেস্ক : নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের মঞ্চ থেকে ‘বুলডোজ়ার-রাজনীতি’ এবং ‘এনআরসি ষড়যন্ত্র’-এর বিরুদ্ধে মুর্হুমুহ তোপ দাগলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বাংলার প্রান্তিক মানুষজনের মধ্যে পাট্টা বিলির মঞ্চেই দেশবাসীর সাংবিধানিক অধিকার থেকে শুরু করে নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার রাজনীতির বিরুদ্ধে নিজের এবং সরকারের অবস্থান পরিস্কার করে বুঝিয়ে দিলেন সকলকে। একের পর এক চোখা চোখা মন্তব্যে বিজেপি-কে আক্রমণ করলেন তিনি। বুধবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের ভরা জনসভায় মমতা প্রতিশ্রুতি দিলেন, যে-কোনও উচ্ছেদ-বিরোধী আন্দোলনে তৃণমূল সরকার থাকবে সাধারণ মানুষেরই পাশেই।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘বিধানসভায় শুনছি, রেলের উড়ালপুল, ন্যাশনাল হাইওয়ে তৈরির নামে মানুষকে সরানো হচ্ছে। পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ ছাড়া বুলডোজ়ার দিয়ে উচ্ছেদ করতে দেব না। এটা আমার সরকারের নীতি নয়। রেলের বা এয়ারপোর্টের জমি থেকে তোলা হলেও আপনারা আন্দোলন গড়ে তুলবেন। সরকার আপনাদের পাশে সবসময় থাকবে।’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানান, ৩০০টি উদ্বাস্তু কলোনি চিহ্নিত করা হয়েছে। এরা সবাই পাট্টা পাবে। ৪৭০১টি পাট্টা এ দিন রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিলি করা হয়। ভূমি, বনজ, কৃষি বা উদ্বাস্তুপাট্টা আরও বাড়ানোর আশ্বাসের সঙ্গে সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী আরও একবার বিজেপির ‘এনআরসি-ষড়যন্ত্র’-কে তোপ দাগেন। তিনি বলেন, ‘কখনও ভাঁওতা দেওয়া হয়, তোমরা ভারতবর্ষের নাগরিক নও। নাগরিক না-হলে ভোট দিল কী করে? আমাদের ভোটে তুমি প্রধানমন্ত্রী। আর তুমি বলছ, আমায় নাগরিক অধিকার দেবে! এটা কি আমায় অসম্মান করছ না?’

রাজ্যে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভোটার তালিকার কাজ নিয়ে সতর্ক করে মমতা বলেন, ‘হয়তো আপনার নাম ঠিক আছে, স্বামীর নাম ভুল। এ-সব দেখিয়ে এনআরসি-র নামে আপনার নাম যেন কেটে দিতে না-পারে। অসমে অনেকের নাম বাদ দিয়েছিল এই ভাবে। এনআরসি-র বিরুদ্ধে আমরা বড় আন্দোলন করেছি। বাংলার সবাইকে বলব, নিজেদের নাম ভোটার লিস্টে তুলুন। নইলে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠাতে পারে।’

বিধানসভার অধিবেশন এবং পাট্টা বিলির মঞ্চ থেকে এদিন সার বরাদ্দে কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘সার কেন্দ্রের হাতে। যা দরকার,কেন্দ্র তার তিন ভাগের এক ভাগ বরাদ্দ করেছে। তিন বার প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছি।’ ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে বকেয়া টাকার কথা তুলে মমতা বিধানসভায় বিরোধীদের অনুরোধ করেন, দিল্লিতে রাজ্যের হয়েকথা বলুন। রাজ্যে সারের কালোবাজারির অভিযোগ তুলে বিজেপি বিধায়কেরা বিধানসভায় বিক্ষোভ দেখান। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী সহযোগিতা চাইলে সাহায্য করব। কিন্তু কেন্দ্রকে লেখা চিঠি বিজেপির রাজ্য সভাপতি বা বিরোধী দলনেতাকে দিতে হবে।’

Related Articles