ভোটে দাঁড়াতে পারবেন চিকিৎসকরা? বিরাট রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ লোকসভা নির্বাচনের (Lok Sabha Election) প্রাক্কালে চিকিৎসকদের জন্য সুখবর! সরকারি হাসপাতালে চাকরিরত চিকিৎসকদের আর ভোটে দাঁড়াতে কোনও বাধা রইল না। চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন তাঁরা। সম্প্রতি এই অনুমতি দিল কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)।

   

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সার্ভিস রুলস অনুসারে, জরুরি পরিষেবার অধীন কর্মরত ব্যক্তিদের ভোটে দাঁড়ানোর বেশ কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। পুলিশ, চিকিৎসক (Doctor), দমকলের মতো ক্ষেত্রে কর্মরত ব্যক্তিদের এই বিধিনিষেধ মানতে হয়। তবে এবার কলকাতা হাই কোর্ট জানিয়ে দিল, চিকিৎসকরা পদত্যাগ করে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতেই পারেন।

ঝাড়গ্রামের সরকারি হাসপাতালের একজন ডাক্তার আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। তিনি চাকরি থেকে পদত্যাগ করতে চাইলেও কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে ইস্তফার কোনও জবাব আসেনি। বন্ড সম্বন্ধিত নিয়ম দেখিয়ে উত্তর দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছিলেন তিনি। চাকরিতে থাকাকালীন তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। তাই শেষমেশে আদালতের দ্বারস্থ হন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক।

আরও পড়ুনঃ টলিউডে ফ্লপ! ‘রাজনীতির ময়দানে আক্ষেপ মিটিয়ে নিচ্ছে’, হিরণকে চাঁচাছোলা আক্রমণ দেবের!

সেই মামলার শুনানিতে কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি রাজশেখর মান্থার পর্যবেক্ষণ, ডাক্তাররা এমনিতেই জনতার সেবক। এবার যদি কেউ ভোটে দাঁড়াতে চান, তাহলে বুঝতে হবে তিনি বৃহত্তর স্বার্থে নিয়োজিত হতে চান। সেক্ষেত্রে তিনি চাকরি থেকে পদত্যাগ করলে ভোটে লড়ায় কোনও সমস্যা থাকার কথা নয়।

প্রসঙ্গত, চব্বিশের লোকসভা নির্বাচন রানাঘাট কেন্দ্র থেকে চিকিৎসক মুকুটমণি অধিকারীকে টিকিট দিয়েছে তৃণমূল। উনিশের লোকসভা ভোটেও ওই একই কেন্দ্র থেকে তাঁকে দাঁড় করাতে চেয়েছিল বিজেপি শিবির। তবে সেবার মুকুটমণির পদত্যাগপত্র গৃহীত না হওয়ার দরুন শেষ অবধি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেননি তিনি। তবে এবার চিকিৎসক পদ থেকে পদত্যাগ করে ভোট ময়দানে নাম লিখিয়েছেন মুকুটমণি।

high court

এবার কলকাতা হাই কোর্টের তরফ থেকেও জানিয়ে দেওয়া হল, সরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকরা যদি চান তাহলে চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন। হাই কোর্ট এই অনুমতি দেওয়ায় বহু ডাক্তারের সুবিধা হবে বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।

Sneha Paul
Sneha Paul

স্নেহা পাল, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তরের পর সাংবাদিকতা শুরু। বিগত প্রায় ২ বছর ধরে বাংলা হান্ট-এর কনটেন্ট রাইটার হিসেবে নিযুক্ত।

সম্পর্কিত খবর