শাহজাহান মামলায় পুলিশের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ কলকাতা হাইকোর্ট! নজিরবিহীন ভর্ৎসনা রাজ্যকে

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ জানুয়ারি মাস থেকেই সংবাদের শিরোনামে রয়েছেন সন্দেশখালির ‘বেতাজ বাদশা’ শেখ শাহজাহান (Sheikh Shahjahan)। খুন থেকে শুরু করে নারী নির্যাতন, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে ভুরি ভুরি। বর্তমানে যেমন কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court) তাঁর বিরুদ্ধে খুনের মামলার শুনানি চলছে। বছর কয়েক আগে সন্দেশখালি এলাকায় তিনটি খুনের ঘটনা ঘটেছিল। এই খুনের ঘটনার নেপথ্যে শাহজাহান রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

   

মৃত্যদের পরিবারের দাবি, তিনজনের খুনের এই ঘটনায় শাহজাহান জড়িত। অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে সন্দেশখালির ‘বাঘে’র নাম উঠে এলেও, পুলিশের চার্জশিটে দেখা যায় তাঁর নাম নেই। সন্দেশখালি (Sandeshkhali) কাণ্ড নিয়ে চলতে থাকা চাপানউতোরের মাঝেই এই অভিযোগ নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় মৃতদের পরিবার।

এরপর আদালতের তরফ থেকে এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, বিচারপ্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ দেওয়া হলে পুলিশের (State Police) তরফ থেকে সেই মামলায় আর কোনও চার্জশিট দেওয়া যায় না। সোমবার মামলার শুনানির সময় মামলাকারীদের আইনজীবী জানান, আদালত বিচারপ্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ দিলেও পুলিশের তরফ থেকে অতিরিক্ত চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ‘রাজনীতি থেকে অবসর নিয়ে নেব’! ভোটের মুখে একি বললেন অধীর চৌধুরী!

একথা গোচরে আসতেই বেশ রেগে যান বিচারপতি। সকল বিচারপ্রক্রিয়ার ওপর আদালত স্থগিতাদেশ দেওয়া সত্ত্বেও পুলিশ কীভাবে চার্জশিট জমা দিল জানতে চান তিনি। পাশাপাশি সত্বর সেই চার্জশিট প্রত্যাহারের কথাও বলেন জাস্টিস জয় সেনগুপ্ত (Justice Joy Sengupta)। সোমবার বিচারপতি সেনগুপ্তর বেঞ্চেই এই মামলার শুনানি ছিল। এদিন তিনি রাজ্য পুলিশকে ভর্ৎসনার পাশাপাশি বলেন, আদালতের নির্দেশ না মানার জন্য আমি তদন্তকারী অফিসারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করতে বাধ্য হব।

sheikh shahjahan bjp worker murder case in calcutta high court

যদিও এরপর রাজ্যের আইনজীবী জানান, পুলিশের তরফ থেকে এখনও এই মামলায় চার্জশিট জমা দেওয়া হয়নি। স্রেফ জমা দেওয়ার পরিকল্পনা করছিল। সমন্বয়ের অভাবে এই তথ্য দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি। আগামী বুধবার ফের শাহজাহানের বিরুদ্ধে এই খুনের মামলার শুনানি রয়েছে।

Sneha Paul
Sneha Paul

স্নেহা পাল, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তরের পর সাংবাদিকতা শুরু। বিগত প্রায় ২ বছর ধরে বাংলা হান্ট-এর কনটেন্ট রাইটার হিসেবে নিযুক্ত।

সম্পর্কিত খবর