বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যে বেআইনি নির্মাণের রমরমা! সাম্প্রতিক সময়ে এমনই অভিযোগ বারে বারে উঠে এসেছে। শহর থেকে জেলায় জেলায় আগাছার মতো গজিয়ে উঠেছে বেআইনি নির্মাণ (Illegal Construction)! যার জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষের। সেই রকমই এক বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত মামলায় কড়া নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court)। হুগলির শ্রীরামপুরে বেআইনি নির্মাণের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত একটি পরিবারকে মোটা অংকের ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
বেআইনি নির্মাণ মামলায় কড়া হাইকোর্ট | Calcutta High Court
শ্রীরামপুরে বেআইনি নির্মাণের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত oib পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। অভিযোগ, পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের এস সি ঘোষ লেনে একটি বেসরকারি আবাসন প্রকল্পের কাজের জেরে আশপাশের একাধিক বাড়িতে ফাটল দেখা দেয়। তবে প্রভাবশালী প্রোমোটারের ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারেননি বলে দাবি।
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে দেবপ্রসাদ বসকের অভিযোগ, নির্মাণস্থলের ঠিক পাশেই তার বাড়ি হওয়ায় নির্মাণ কাজ শুরুর পর থেকেই তাঁদের বাড়ির বিভিন্ন অংশে গুরুতর ক্ষতি হতে থাকে। এই নিয়ে একাধিকবার তিনি পুরসভায় অভিযোগও জানান। তবে সুরাহা হয়নি। শেষমেষ ২০২৩ সালে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন দেবপ্রসাদবাবু।
প্রথমে বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে মামলা গেলে তিনি ওই বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন। পরে সেই নির্দেশই বহাল রাখেন বিচারপতি কৌশিক চন্দ্রের বেঞ্চও। তবে আদালতের নির্দেশের পরও শ্রীরামপুর পুরসভা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ। এরই মধ্যে নির্মাণকারী সংস্থার কর্ণধার হাইকোর্টের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ফের আদালতে যান।
সিঙ্গল বেঞ্চ সেই আবেদন খারিজ করে দিলে জল গড়ায় বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চে। সেখানে তথ্য গোপনের অভিযোগে নির্মাণকারী সংস্থাকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করে মামলাটি খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। ফের রায়ের পুনর্বিবেচনার আবেদন নিয়ে বিচারপতি কৌশিক চন্দ্রের এজলাসে যায় নির্মাণকারী সংস্থা। বলা হয়, রাজ্য সরকারের নতুন আইনে বেআইনি নির্মাণের ক্ষেত্রে কিছু ছাড়ের বিধান রয়েছে।
এদিকে পাল্টা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের আইনজীবী বলেন, অবৈধ নির্মাণের ফলেই বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক্ষেত্রে আবেদনকারী ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য। বিচারপতি কৌশিক চন্দ্রের নির্দেশ ছিল, শ্রীরামপুর পুরসভাকে কোনও নিরপেক্ষ সংস্থার মাধ্যমে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

আরও পড়ুন: ‘৭২ ঘন্টার মধ্যে….’, ডেডলাইন বেঁধে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে মানহানির নোটিস শুভেন্দুর
আদালতের নির্দেশ মতো সেই সমীক্ষা রিপোর্ট খতিয়ে দেখে হাইকোর্ট ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। নির্মাণকারী সংস্থার ক্ষেত্রে রাজ্যের নতুন আইন অনুযায়ী কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট পুরসভাকেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ আদালতের।












