বাংলা হান্ট ডেস্ক :ময়দানের বুকে যানবাহনের চাপ ও দূষণ কমাতে দীর্ঘদিন ধরেই ধর্মতলা এবং বাবুঘাটের বাস টার্মিনাস অন্যত্র সরানোর দাবি উঠেছে। আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও প্রায় দুই দশক ধরে সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি। এবার সেই দীর্ঘসূত্রতা কাটাতেই সক্রিয় হল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। টার্মিনাস স্থানান্তরের পথ খুঁজতে রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
ধর্মতলা বাস টার্মিনাস নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)
ময়দান এবং ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল এলাকার পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিকে সামনে রেখেই এই পদক্ষেপ। বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশে মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে তৈরি হবে উচ্চপর্যায়ের কমিটি। পরিবহণ ও পরিবেশ দপ্তরের সচিব, রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল এবং মামলার আবেদনকারী পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্তও এই কমিটির অংশ থাকবেন। স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তার একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে কমিটিকে।
পাশাপাশি, সেই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন কতটা এগোল, তা জানিয়ে সময় সময়ে আদালতের কাছে রিপোর্টও জমা দিতে হবে। এই সমস্যার সূত্রপাত অবশ্য আজকের নয়। ময়দান এলাকায় যানবাহনজনিত দূষণ নিয়ে ২০০২ সালে জনস্বার্থ মামলা করেছিলেন পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত। মামলার শুনানির পর ২০০৭ সালে কলকাতা হাইকোর্ট ধর্মতলা থেকে বাস টার্মিনাস সরানোর নির্দেশ দেয়। পরে সেই নির্দেশের বিরুদ্ধেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। ২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্টও হাইকোর্টের নির্দেশ বহাল রাখে। কিন্তু আদালতের নির্দেশ কার্যকর করার ক্ষেত্রে বারবার সামনে এসেছে নানা বাধা।
প্রশাসনিক স্তরে সিদ্ধান্ত নেওয়া, বিকল্প পরিকাঠামো তৈরি, বাস পরিচালনার বাস্তব সমস্যা এবং বাস মালিকদের আপত্তি—সব মিলিয়ে বিষয়টি ঝুলেই থেকেছে। এদিকে জোকা-এসপ্ল্যানেড মেট্রো প্রকল্পের কাজের কারণে কার্জন পার্ক এলাকায় অস্থায়ী পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে সেই ব্যবস্থা যথেষ্ট নয় বলেই মনে করছে আদালত। ময়দানকে যানবাহনের দূষণ থেকে রক্ষা করতে স্থায়ী পরিকাঠামো তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাই গুরুত্ব পেয়েছে শুনানিতে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্থায়ী ‘মাল্টি-লেভেল টার্মিনাস’ তৈরির বিষয়টিও সামনে এসেছে।
আদালতের এই নির্দেশের ফলে এতদিন ধরে আটকে থাকা টার্মিনাস স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় এবার প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন মূল প্রশ্ন, উচ্চপর্যায়ের কমিটি কত দ্রুত কার্যকর পরিকল্পনা তৈরি করতে পারে এবং সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে এতদিনের বাধাগুলি কীভাবে সরানো যায়।