টাইমলাইনপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

বীরভূম থেকে মুর্শিদাবাদেও কন্ট্রোল হত গরুপাচার! CBI-র হাতে উঠে এল প্রমাণ

বাংলাহান্ট ডেস্ক : সাম্প্রতিককালেই অনুব্রত মণ্ডলের ১৭ কোটির ফিক্সড ডিপোজিট বাজেয়াপ্ত করেছে সিবিআই। ইতিপূর্বে পার্থ ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় স্তূপীকৃত কোটি কোটি টাকা। রাশি রাশি ৫০০ ও ২,০০০ টাকার নোট উদ্ধার করে ইডি।

এর মধ্যেই আবার নতুন খবর। সিবিআই এর হাতে এল প্রমাণ। লক্ষ লক্ষ টাকায় কেনা বেচা হতো গরু। এই গরু পাচার কন্ট্রোল করা হতো বীরভূম থেকে মুর্শিদাবাদেও। সূত্রে খবর অনুব্রত মণ্ডল জড়িয়ে আছেন এই গরু পাচার কাণ্ডের সাথে। এদিকে অর্থের উৎস জানতে চান গোয়েন্দারা, আর তাই এবার অনুব্রতর ফিক্সড ডিপোজিট নিয়ে সিবিআইয়ের পাশাপাশি ইডি এই গরু পাচার দুর্নীতির তদন্তে নামতে পারে বলে খবর সূত্রের।

অনুব্রত মন্ডলের হয়ে গরু পাচারে সাহায্য করত সায়গল হোসেন। অন্যদিকে এনামূলের হয়ে উপস্থিত থাকতো শেখ আব্দুল লতিফ। এই বিষয় যথেষ্ট তথ্য প্রমান এসেছে CBI এর গোয়েন্দাদের হাতে । সায়গল হোসেনের থেকে সিবিআই এর গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, সায়গলের মা লতিকা খাতুনের নামে একটি সম্পত্তি দু’জন বিক্রেতার হাত বদল করে কেনা হয়েছে। যে দামে সেই সম্পত্তি কেনা হয় তার থেকে অনেক কম দাম দেখানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর বদলে ইলামবাজার হাট থেকে প্রচুর সংখ্যায় গরু কিনে নেয় এনামূল। শেখ আব্দুল লতিফ এবং এনামূলকে জেরা করে পাওয়া কথায় জানা যায় জঙ্গিপুর কাস্টমস অফিসে ১৬ বার নিলামে অংশ নেয় লতিফ।

ইলামবাজার হাট থেকে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লক্ষ টাকায় কেনা এই গরুগুলি বাংলাদেশে পাচার করা হয়েছে। অপরদিকে লতিফের সঙ্গে পরিচয় হয় মন্টু মল্লিক ওরফে আফতাবুদ্দিন মল্লিকের। এই মন্টু মল্লিক এনামূলের নামে জাল রশিদ তৈরী করে দিত বলেও জানা গিয়েছে এবং এই জাল বিল দিয়ে দেখানো হত স্থানীয় হাটে বিক্রি করা হয়েছে এই গরু। সিবিআই সূত্রে খবর, এই চক্র শুধুমাত্র দুই অথবা তিন জনের হতেই পারে না , এর ভেতর আরো অনেকে যুক্ত আছেন । কারণ এটি একটি আন্তর্জাতিক গরু পাচার চক্র সন্দেহ সিবিআই-এর।

ইতিমধ্যেই অনুব্রত ইস্যুতে নতুন তথ্য পাচ্ছে সিবিআই গোয়েন্দারা। তাঁর মেয়ে সুকন্যা মণ্ডলের টেট পাশ না করেই হয় সরকারি বিদ্যালয় এ চাকরি। তাছাড়াও শিক্ষকতা না করেই , বিদ্যালয় উপস্থিত না হয়েই, বাড়িতে রেজিস্ট্রার আনিয়ে সই করে হাজিরার ব্যবস্থা করা হয় সুকন্যা মন্ডলের। গরু পাচারের পাশাপাশি, এর পেছনে অন্য দুর্নীতির চক্র রয়েছে কিনা তার উত্তর খুঁজতে টানা জেরা চালাবে সিবিআই।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ফের কম্যান্ড হাসপাতালে রুটিন স্বাস্থ্য পরীক্ষা হওয়ার কথা আছে অনুব্রতর। ২০ অগস্ট অনুব্রতকে আবার হাজিরা দিতে হবে আসানসোল স্পেশাল সিবিআই আদালতে।

Related Articles