সাদা খাতা জমা দিয়েই চাকরি! পুরসভা নিয়োগে ভয়াবহ দুর্নীতির ছবি তুলে ধরল সিবিআই চার্জশিট

Published on:

Published on:

CBI chargesheet reveals horrific municipality recruitment scam
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির রেশ এখনও কাটেনি। এর মধ্যেই এবার পুরসভাগুলিতে কর্মী নিয়োগ ঘিরে সামনে এল আরও এক বড়সড় কেলেঙ্কারি (Municipality Recruitment Scam)। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের চার্জশিটে উঠে এসেছে এমন সব তথ্য, যা শুনে সাধারণ মানুষ অবাক। অভিযোগ, মেধা বা পরীক্ষা নয় কিছু ক্ষেত্রে সাদা খাতা জমা দিয়েই মিলেছে সরকারি চাকরি।

পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি (Municipality Recruitment Scam) নিয়ে সিবিআই-এর বিস্ফোরক চার্জশিট

পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি (Municipality Recruitment Scam) নিয়ে আলিপুরের বিশেষ সিবিআই আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট জমা দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। প্রায় আড়াই বছর ধরে তদন্ত চালানোর পর সিবিআই দাবি করেছে, রাজ্যের একাধিক পুরসভায় কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভয়াবহ বেনিয়ম হয়েছে।

সাদা খাতা জমা দিয়েই চাকরি

সিবিআই-এর রিপোর্ট অনুযায়ী জানা গিয়েছে, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই মেধার কোনো মূল্য ছিল না। তদন্তে দেখা গেছে, বহু পরীক্ষার্থী পরীক্ষার খাতায় একটি শব্দও না লিখে, অর্থাৎ সম্পূর্ণ সাদা উত্তরপত্র জমা দিয়েও নিয়োগপত্র পেয়েছেন। এই তথ্য সামনে আসতেই গোটা বিষয়টি নিয়ে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। চার্জশিটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, দুর্নীতির জাল এতটাই গভীরে ছিল যে অনেক ক্ষেত্রে এক পদের জন্য পরীক্ষা দিয়ে বা নির্বাচিত হয়েও পরে অন্য পদে চাকরি করছেন অভিযুক্তরা। অর্থাৎ পুরো নিয়োগ ব্যবস্থাই ছিল প্রশ্নের মুখে।

প্রায় ৬০০ নিয়োগে বেনিয়মের অভিযোগ

সিবিআই জানিয়েছে, তদন্তে প্রায় ৬০০-রও বেশি নিয়োগের ক্ষেত্রে সরাসরি জালিয়াতি বা গুরুতর বেনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। এই বিপুল সংখ্যক নিয়োগকে ঘিরেই তদন্তকারীরা বড়সড় অনিয়মের ছবি তুলে ধরেছেন আদালতে। চার্জশিট অনুযায়ী, এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পুরসভা। অভিযোগ, অয়ন শীলের সংস্থা ‘এবিএস ইনফোজন প্রাইভেট লিমিটেড’-এর মাধ্যমে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানো হয়েছিল। সিবিআইয়ের নজরে থাকা ৮টি পুরসভা হল – টিটাগড়, রানাঘাট, হালিশহর, বনগাঁ, কামারহাটি, বরাহনগর, উত্তর দমদম এবং দক্ষিণ দমদম।

এই চার্জশিটে শুধু বেসরকারি সংস্থার নামই নয়, উঠে এসেছে রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন। সেই সময় ডিরেক্টরেট অফ লোকাল বডিস (DLB)-এর ডিরেক্টর পদে ছিলেন আইএএস অফিসার জ্যোতিষমান চট্টোপাধ্যায়। সিবিআইয়ের অভিযোগ, পুরসভাগুলিতে কর্মী নিয়োগের চূড়ান্ত অনুমোদন এই দপ্তর থেকেই আসত। তদন্তকারীদের দাবি, দুর্নীতি সম্পর্কে জেনেও তিনি নীরব ছিলেন।

CBI Declares Former Chairman Prashanta Sur as Hostile Witness in SSC Scam

আরও পড়ুনঃ ভোটের আগে পুলিশে বড় রদবদল! একসঙ্গে বদলি ২৩ IPS, ৩ WBPS, সিআইডিতে নতুন আইজিপি

সিবিআইয়ের এই চার্জশিট প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে চাপা উত্তেজনা শুরু হয়েছে । বিরোধী দলগুলি শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ও রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেছে। তাদের দাবি, এই ঘটনা প্রমাণ করে দুর্নীতি (Municipality Recruitment Scam) প্রশাসনের কতটা গভীরে ঢুকে পড়েছে। বিরোধীরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।‌অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়েছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সিবিআইয়ের কাছে যদি নির্দিষ্ট প্রমাণ থাকে, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। পাশাপাশি তাদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার এজেন্সিকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধন করছে।