বাংলাহান্ট ডেস্ক: ২০২৭ সালের আদমশুমারির (Census 2027) প্রথম ধাপ ১ এপ্রিল থেকে শুরু হবে বলে সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রথম পর্বের হাউসিং এনলিস্টিং বা আবাসন তালিকাকরণ কার্যক্রম চলবে চলতি বছরের ৩০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এই পর্যায়ে সারা দেশে বাড়ি, আবাসন কাঠামো এবং এর ব্যবহার সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে, যা ষোড়শ আদমশুমারির প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি করবে।
শীঘ্রই শুরু হচ্ছে আদমশুমারি ২০২৭ (Census 2027)-এর প্রক্রিয়া:
এই জাতীয় গণনা দুটি পর্যায়ে সম্পন্ন হবে—প্রথমত আবাসন গণনা এবং পরে জনসংখ্যা গণনা। ২০২৭ সালের এই আদমশুমারি হবে ভারতের স্বাধীনতার পর অষ্টম এবং সামগ্রিকভাবে ষোড়শ। পুরো প্রক্রিয়াটি ১৯৪৮ সালের আদমশুমারি আইন এবং ১৯৯০ সালের বিধি মেনেই পরিচালিত হবে। একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল, এবারই প্রথম ডিজিটাল পদ্ধতিতে সমগ্র দেশে আদমশুমারি পরিচালনা করা হবে, যা তথ্য সংগ্রহের গতি ও নির্ভুলতা বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:বাংলার রেলে নতুন শুরু! প্রথম বন্দে ভারত স্লিপারসহ ১৩ ট্রেনের সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের বারোটি রাজ্যে নির্বাচনী তালিকা সংশোধনের বিশেষ কাজ (এসআইআর) চলছে। তার মধ্যেই আদমশুমারির সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে, ২০২৭ সালের এপ্রিল-মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ড এবং কেরালায় বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই অবস্থায়, নির্বাচনী কাজ ও আদমশুমারি—দুটোই পরিচালনার জন্য প্রশাসনের উপর চাপ পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুই বড় কর্মযজ্ঞ একই সময়ে পরিচালনা করা প্রশাসনিকভাবে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
তবে কেন্দ্রীয় বিজ্ঞপ্তিতে এই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে নমনীয়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আবাসন গণনার জন্য নির্ধারিত ৩০ দিনের সময়সীমা রাজ্যগুলি নিজেদের সুবিধামতো, এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে যে কোনো সময়ে নির্ধারণ করতে পারবে। ফলে, যেসব রাজ্যে নির্বাচন রয়েছে, সেগুলো ভোটের মরসুম শেষ হওয়ার পরেও এই কাজ সম্পন্ন করতে পারবে। প্রতিটি রাজ্যের জন্য পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে কমপক্ষে দুই মাস সময় ধরা হয়েছে।

আরও পড়ুন: তৃণমূল ছেড়ে সদ্য কংগ্রেসে ফেরা মৌসম নূর, এবার কোন কেন্দ্রের প্রার্থী হবেন?
এছাড়াও, রাজ্যগুলিতে ৩০ দিনের সরাসরি তথ্য সংগ্রহের আগে সাধারণ জনগণকে ১৫ দিনের একটি সময় দেওয়া হবে, যাতে তারা আগাম অনলাইন বা অফলাইন মাধ্যমের সাহায্যে নিজেদের আবাসন সংক্রান্ত তথ্য জমা দিতে পারেন। সরকারের লক্ষ্য, ডিজিটাল ও নমনীয় পদ্ধতির মাধ্যমে ২০২৭ সালের এই ঐতিহাসিক আদমশুমারিকে যতটা সম্ভব নির্ভুল, সময়োপযোগী ও দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করা।












