বাংলাহান্ট ডেস্ক: এক বছর পর অপারেশন সিঁদুরে (Operation Sindoor) প্রাণ উৎসর্গ করা ছয় ভারতীয় সেনাকর্মীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথমবারের মতো প্রকাশ করল কেন্দ্রীয় সরকার। ২০২৫ সালে পহেলগাঁওতে পর্যটকদের উপর জঙ্গি হামলার পাল্টা জবাবে অপারেশন সিঁদুর অভিযান চালানো হয়। এতদিন পর্যন্ত সেই অভিযানে মোট কতজন সেনা শহিদ হয়েছেন বা তাঁদের পরিচয় সরকারের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। দীর্ঘ জল্পনার অবশেষে এবার তাঁদের নাম জাতীয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধের ‘রোল অব অনার’-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি তাঁদের নাম নয়াদিল্লির ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালের স্মারক প্রাচীরেও খোদাই করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যার মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় আত্মবলিদান দেওয়া এই বীর সন্তানদের প্রতি আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা ও স্বীকৃতি জানাল কেন্দ্রীয় সরকার।
অপারেশন সিঁদুরে (Operation Sindoor) শহিদ ভারতীয় সেনার ৬ বীরের পরিচয় প্রকাশ করল কেন্দ্র!
এদিন জানানো হয় যে, সরকারি তালিকায় স্থান পেয়েছেন সদর মেজর পবন কুমার (হেডকোয়ার্টার্স ১০ ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগেড), রাইফেলম্যান সুনীল কুমার (৪ জম্মু ও কাশ্মীর লাইট ইনফ্যান্ট্রি), যিনি মরণোত্তর বীর চক্রে সম্মানিত হয়েছেন, ল্যান্স নায়েক দিনেশ কুমার (৫ ফিল্ড রেজিমেন্ট), অ্যাভিয়েশন টেকনিশিয়ান মুড মুরালিনায়ক (৮৫১ লাইট রেজিমেন্ট), হাবিলদার সুনীল কুমার সিং (২৩৭ ফিল্ড ওয়ার্কশপ কোম্পানি) এবং সার্জেন্ট সুরেন্দ্র কুমার (৩৯ উইং), যিনি বায়ু পদকপ্রাপ্ত ছিলেন। জানা গিয়েছে, জাতীয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধের ২০২৫ সালের অংশে ‘ওয়াল ৩ডি’-তে তাঁদের নাম যুক্ত করা হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সামরিক অভিযানে শহিদ সেনাদের স্মরণে নির্মিত এই স্মৃতিসৌধে নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া দেশের সর্বোচ্চ সম্মানগুলির অন্যতম বলে মনে করা হয় (Operation Sindoor)।
আরও পড়ুন: ‘আমিই শেষ করব ওকে’, কেতনকে কীভাবে খুন করে সিয়ার প্রেমিক? তদন্তে ফাঁস হাড়হিম করা পরিকল্পনা
২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৬ জন পুরুষ নিহত হন, যাঁদের অধিকাংশই পর্যটক ছিলেন। তারই জবাবে ৭ মে ভোরে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী পাকিস্তান এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলা চালায়। যার নাম দেওয়া হয় অপারেশন সিঁদুর। ভারতের সরকারের তরফে জানানো হয় যে, হামলা করা নয়টি ঘাঁটিই জইশ-ই-মহম্মদ ও লস্কর-ই-তইবার মতো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। প্রায় চার দিন ধরে সীমান্তে উত্তেজনা চলার পর ১০ মে দুই দেশের ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনস (ডিজিএমও)-স্তরের আলোচনার মাধ্যমে সংঘর্ষ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অপারেশন সিঁদুর ছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং ভারতীয় বায়ুসেনার সমন্বিত অভিযান। প্রকাশিত তালিকা থেকে স্পষ্ট, স্থল ও আকাশ, দুই দিক থেকেই পরিকল্পিতভাবে এই সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়েছিল। এই অভিযানের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করে শহিদদের তালিকায় বীর চক্রপ্রাপ্ত রাইফেলম্যান সুনীল কুমার এবং বায়ু পদকপ্রাপ্ত সার্জেন্ট সুরেন্দ্র কুমারের উপস্থিতি। দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁরা যে সর্বোচ্চ মূল্য দিয়েছেন, তা ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর কর্তব্যনিষ্ঠারই প্রতিফলন।

আরও পড়ুন: নেই খাবার! বন্ধ ওষুধ সরবরাহ, PoK-তে বর্বরতার সব সীমা ছাড়িয়ে গেল পাক সেনা
জাতীয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে এই ছয় বীর সেনার নাম সংযোজন কেবলমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নয়, বরং তাঁদের আত্মত্যাগকে দেশের ইতিহাসে স্থায়ীভাবে লিপিবদ্ধ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে প্রকাশ পায়। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যখন এই স্মৃতিসৌধে গিয়ে শহিদদের নাম দেখবে, তখন দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাঁদের অবদানের কথাও স্মরণ করবে। অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindoor) ভারতের সামরিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে ইতিমধ্যেই জায়গা করে নিয়েছে, আর সেই অধ্যায়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকবেন এই ছয় বীর সেনা, যাঁদের আত্মত্যাগ দেশের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।













