বাংলা হান্ট ডেস্ক: ই২০ জ্বালানি (E20 Fuel) নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পথে আরও এক ধাপ এগোল কেন্দ্রীয় সরকার (Central Government of India)। পেট্রলের উপর নির্ভরতা কমিয়ে সম্পূর্ণ ইথানলচালিত ই১০০ (E100 Fuel) গাড়ির ব্যবহার চালু করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। সম্প্রতি ‘সেন্ট্রাল মোটর ভেহিকেলস রুলস, ১৯৮৯’-এ সংশোধনী এনে যানবাহনের জ্বালানি সংক্রান্ত বিধিতে ই১০০-কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর অর্থ, নির্দিষ্ট প্রযুক্তি ও অনুমোদনসম্পন্ন যানবাহনে এবার ১০০ শতাংশ ইথানল জ্বালানি ব্যবহারের জন্য বিধিগত স্বীকৃতি মিলল। তবে এই সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে বর্তমানে রাস্তায় চলা সমস্ত পেট্রলচালিত গাড়িতে সরাসরি ইথানল ভরে চালানো যাবে। নতুন নিয়মে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহারের পথ খুললেও সাধারণ গাড়িচালকদের জন্য এই সুবিধা পেতে এখনও অপেক্ষা করতে হবে।
পেট্রলের উপর নির্ভরতা কমিয়ে সম্পূর্ণ ইথানলচালিত ই১০০ (E100 Fuel) গাড়ির ব্যবহারে অনুমোদন কেন্দ্রের
কেন্দ্রের সংশোধিত বিধিতে যানবাহনের নির্গমন মান, জ্বালানির নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য এবং পরীক্ষা পদ্ধতি সংক্রান্ত নিয়মের আওতায় ই৮৫ ও ই১০০ জ্বালানিকে (E100 Fuel) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ই১০০ বলতে বোঝায় ১০০ শতাংশ ইথানলযুক্ত জ্বালানি। অন্যদিকে, ই৮৫-তে ইথানলের পরিমাণ থাকে সর্বোচ্চ ৮৫ শতাংশ, বাকি অংশে থাকে অন্যান্য উপাদান। এই সংশোধনীর ফলে গাড়ি নির্মাণকারী সংস্থাগুলি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ইথানলচালিত যানবাহন তৈরি ও অনুমোদনের জন্য এগোতে পারবে। বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে ই১০০ জ্বালানিকে বিধিতে অন্তর্ভুক্ত করার অর্থ এই নয় যে বাজারে থাকা সব গাড়ি এখনই এই জ্বালানিতে চালানোর উপযুক্ত হয়ে উঠেছে।
এক্ষেত্রে গাড়িচালকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ইঞ্জিনের উপযোগিতা। বর্তমানে প্রচলিত পেট্রলচালিত গাড়ি কিংবা ই২০ জ্বালানিতে চলার উপযোগী গাড়িতেও সরাসরি ই১০০ ব্যবহার করা যাবে না। সম্পূর্ণ ইথানলে গাড়ি চালানোর জন্য প্রয়োজন বিশেষভাবে তৈরি বা অনুমোদিত ইঞ্জিন ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা। সেই কারণে গাড়ি নির্মাণকারী সংস্থাগুলিকে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তির উন্নয়ন, পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনের মধ্য দিয়ে এগোতে হবে। অর্থাৎ, কেন্দ্রের নতুন সিদ্ধান্তে ই১০০ জ্বালানির ব্যবহারের জন্য বিধিগত স্বীকৃতি মিললেও সাধারণ মানুষের পেট্রলচালিত গাড়ি রাতারাতি ইথানলচালিত হয়ে যাবে না। এই ধরনের গাড়ি বাজারে সহজলভ্য হওয়া এবং জ্বালানি সরবরাহের পরিকাঠামো তৈরি হওয়া—দুই বিষয়ই আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
জ্বালানি নীতিতে এই পরিবর্তনের পিছনে রয়েছে দেশের অপরিশোধিত তেলের আমদানিনির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য। ভারতকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব পড়ে দেশের অর্থনীতি, পরিবহণ খরচ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ে। সেই কারণেই দেশীয়ভাবে উৎপাদিত বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উপর জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। আখ, ভুট্টা এবং অন্যান্য কৃষিজ উপাদান থেকে উৎপাদিত ইথানল পেট্রলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। নির্দিষ্ট প্রযুক্তিতে তৈরি যানবাহনে বেশি মাত্রায় ইথানল ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হলে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় বিকল্পের পরিসর আরও বাড়তে পারে। তবে এর বাস্তব সুফল নির্ভর করবে উৎপাদন, সরবরাহ এবং গাড়ির প্রযুক্তিগত প্রস্তুতির উপর।

আরও পড়ুন:বেসরকারি স্কুলের অনুমোদনে ১০০ কোটির দুর্নীতির অভিযোগ! তামিলনাড়ুর প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী গ্রেফতার
এদিকে, সংশোধিত মোটর ভেহিকেলস রুলসে যানবাহনের ওজন সংক্রান্ত বিধিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নতুন নিয়মে যানবাহনের সর্বোচ্চ অনুমোদিত মোট ওজনের সীমা ৩,০০০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ৩,৫০০ কেজি করা হয়েছে। যদিও এই পরিবর্তন এবং ই১০০ জ্বালানির স্বীকৃতি পৃথক বিষয়, দুটিই যানবাহন সংক্রান্ত বিধির সংশোধনের অংশ। ই২০ জ্বালানির ব্যবহার নিয়ে ইতিমধ্যেই গাড়ির ইঞ্জিনের উপযোগিতা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং জ্বালানির খরচ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। তার মধ্যেই ই১০০-(E100 Fuel)কে বিধিগত স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিকল্প জ্বালানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে। তবে আপাতত ই১০০ জ্বালানিতে গাড়ি চালানোর সুযোগ সীমাবদ্ধ থাকবে বিশেষভাবে উপযুক্ত যানবাহনের মধ্যে। সাধারণ গাড়িচালকদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব পড়তে হলে প্রয়োজন নতুন মডেলের গাড়ি, উপযুক্ত জ্বালানি পরিকাঠামো এবং বাস্তব ক্ষেত্রে এই জ্বালানির ব্যবহার কতটা কার্যকর হয়, তার স্পষ্ট ধারণা।














