বাংলা হান্ট ডেস্কঃ আইপ্যাক অফিসে ইডি-র তল্লাশি ঘিরে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। সেই ঘটনার রেশ গড়াল কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেস, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, দু’পক্ষের মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল শুক্রবার। আর সেই শুনানির আগেই প্রায় ১৩ বছর পর আদালতের এজলাসে হাজির হলেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya)। তাঁর উপস্থিতি ঘিরে বাড়ল কৌতূহল, তৈরি হল ভিড়, আর তার জেরে শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে গেল শুনানি।
শাসক দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya)
দীর্ঘ সময় ধরে রাজ্যের মন্ত্রী পদে রয়েছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya)। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব সামলেছেন। শাসকদলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেত্রী হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেসে তাঁর নাম উপরের দিকেই থাকে। তবে রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকলেও আদতে তিনি একজন আইনজীবী।
১৩ বছর পর আদালতের এজলাসে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য
ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার। ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের অফিসে এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি-র তল্লাশি ঘিরে তুমুল রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। তল্লাশির মাঝেই সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, তিনি বেশ কিছু ফাইল গাড়িতে তুলে নিয়ে যান। এই ঘটনা ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, দলের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ ফাইল চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই ইস্যুতে মামলা দায়ের করে তৃণমূল। পাল্টা মামলা করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটও। এই দুই মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল শুক্রবার কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে।
শুনানি শুরুর আগেই শুক্রবার দুপুর ২টো নাগাদ আদালতের এজলাসে হাজির হন রাজ্যের অর্থ ও স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya)। তিনি জানান, মামলা শুনতেই এদিন কোর্টে এসেছেন।
উল্লেখ্য, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে LLB পাশ করা চন্দ্রিমা (Chandrima Bhattacharya) একসময় হাই কোর্টে আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করেছেন। তবে ২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর তিনি বিধায়ক হন এবং পরে মন্ত্রী হন। সেই কারণে এখন আর আদালতে সওয়াল-জবাব করতে পারেন না। যদিও হাই কোর্ট চত্বরে তাঁকে প্রায়ই দেখা যায়, তবে এত বছরে কোনও মামলার শুনানিতে এজলাসে বসে থাকতে দেখা যায়নি তাঁকে। এমনকী সারদা বা নারদ কাণ্ডের মতো বড় মামলাতেও তিনি আদালতে যাননি।

আরও পড়ুনঃ হইচইয়ে থমকে গেল শুনানি, ‘কিচ্ছু শুনতে পাচ্ছি না’ বলে এজলাস ছাড়লেন বিচারপতি ঘোষ, কোন মামলায়?
কেন তাহলে এই মামলায় তিনি হাজির হলেন? সেই প্রশ্নের উত্তরে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya) জানান, বর্তমানে তিনি হাইকোর্টে তৃণমূল কংগ্রেসের লিগাল সেলের চেয়ারম্যান। সেই কারণেই মামলার শুনানি দেখতে এসেছেন। এদিন শুধু চন্দ্রিমা নন, বিপুল সংখ্যক তৃণমূল সমর্থকও কোর্টরুমে উপস্থিত ছিলেন। ভিড় এতটাই বেড়ে যায় যে শুনানি শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি দেখে এজলাস ছেড়ে বেরিয়ে যান বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। শেষ পর্যন্ত শুনানি পিছিয়ে যায়। আগামী ১৪ জানুয়ারি এই মামলার শুনানি হবে বলে জানানো হয়েছে।












