বাংলা হান্ট ডেস্কঃ দাড়িভিট মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) ধাক্কা খেল রাজ্য সরকার। ২০১৮ সালে দাড়িভিটে (Darivit Case) ‘পুলিশের’ গুলিতে দুই ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় এই আগে এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের একক বেঞ্চ। সেই নির্দেশের বিরোধিতা করে ডিভিশন বেঞ্চে গিয়েছিল রাজ্য সরকার। সেই মামলায় একক বেঞ্চের সিদ্ধান্তের উপর হস্তক্ষেপ করতে নারাজ ডিভিশন বেঞ্চ। বহাল রইল এনআইএ তদন্ত। ফলত বড়সড় ধাক্কা খেল পশ্চিমবঙ্গ সরকার (Government Of West Bengal)।
দাড়িভিট মামলায় কী সিদ্ধান্ত হাইকোর্টের? (Calcutta High Court)
এই নিয়ে দীর্ঘ শুনানি চলছে। মঙ্গলবার এই মামলার শুনানি শেষে রাজ্যের আবেদন খারিজ করে দিল বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি সুপ্রতিম ভট্টাচার্যর ডিভিশন বেঞ্চ। উল্লেখ্য ২০২৩ সালের মে মাসে হাইকোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার একক বেঞ্চ দাড়িভিটকাণ্ডে এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল।
২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে উর্দুর বদলে বাংলা ভাষার শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে উত্তর দিনাজপুরের দাড়িভিট। উর্দু নয়, চাই বাংলা শিক্ষক, এই দাবি জানিয়ে বিক্ষোভে নামে ছাত্ররা। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে স্কুল ক্যাম্পাস। সেখানেই পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় ২ ছাত্রের। যা নিয়ে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজ্য-রাজনীতি।
স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, পুলিশ গুলি চালিয়েছে।পুলিশের দিকে অভিযোগের তীর এলেও প্রথম থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তারা। এরপর আদালতে মামালা হলে ছাত্র মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্য সরকার সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেয়। ওদিকে এনআইএ তদন্তের দাবি তুলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় মৃত ছাত্রের পরিবার। ২০২৩ সালে এই মামলার তদন্তভার এনআইএ-র হাতে তুলে দেয় হাই কোর্ট।
সেই সময় বিচারপতি মান্থার আরও নির্দেশ ছিল, আবেদনকারীরা সিবিআই তদন্তের আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু, তথ্য খতিয়ে দেখে আদালত এই ঘটনার তদন্তে এনআইএ-কে উপযুক্ত মনে করছে। একক বেঞ্চের সেই NIA তদন্তের নির্দেশকেই চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যায় রাজ্য। এদিন রাজ্যের আবেদন খারিজ করল হাইকোর্ট।

পর্যবেক্ষণে দুই বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ বলে, “NIA এই মামলার তদন্ত করছে। তাতে হস্তক্ষেপ করবে না আদালত।” এবার ডিভিশন বেঞ্চে ধাক্কা খাওয়ার পর, রাজ্য নতুন কিছু পদক্ষেপ করে কি না, সেদিকে নজর থাকবে।












