বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বাংলায় একের পর এক দুর্নীতি মামলায় ক্রমাগত তদন্তের জাল গুটিয়ে আনা শুরু হয়ে গিয়েছে। একদিকে যখন নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতি থেকে গরু এবং কয়লা পাচার মামলায় তদন্ত অগ্রসর করে নিয়ে চলেছে সিবিআই (CBI) এবং ইডি (Enforcement Directorate), আবার অপরদিকে রাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডিরও (CID) তৎপরতা তুঙ্গে। একের পর এক প্রান্তে তল্লাশি থেকে শুরু করে গ্রেফতারি মাঝে সরগরম বঙ্গ রাজনীতি।
বর্তমানে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠল সিআইডির নেওয়া এক পদক্ষেপে। গরু পাচার মামলায় সম্প্রতি কোটি কোটি টাকা উদ্ধার করার পাশাপাশি বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি আর এবার তাদের নজরে উঠে এলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ২০১৯ সালে বিজেপি নেতার জন্য কোন কোন প্রান্তে নিরাপত্তা রক্ষী মোতায়েন করা হয়েছিল, তা জানতে ইতিমধ্যেই তৎপর হয়ে উঠেছে তারা। এক্ষেত্রে মুর্শিদাবাদের এসপির কাছে সকল তথ্য তলব করা হয়েছে বলে খবর।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি গরু পাচার মামলায় তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অনুব্রত মণ্ডলকে গ্রেফতার করে সিবিআই। পরবর্তীতে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে উঠে এসেছে। আবার অপরদিকে সিআইডি আধিকারিকরাও ক্রমাগত তদন্তের জাল গোটাতে তৎপর। এক্ষেত্রে বর্তমানে তাদের নজরে উঠে এসেছে শুভেন্দু অধিকারীর নাম।
২০১৯ সালে মুর্শিদাবাদে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে পর্যবেক্ষকের পদ সামলান শুভেন্দুবাবু। সেই সময় তাঁর গতিবিধির ওপর প্রধানত নজর রেখে চলেছে তদন্তকারী অফিসাররা। এক্ষেত্রে মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপারের কাছে তথ্য তলব করার পাশাপাশি আরও একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছে তারা।
উল্লেখ্য, গত রবিবার এই মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত এনামুল ঘনিষ্ঠ জেনারুল শেখকে গ্রেফতার করে সিআইডি। পরবর্তীতে আরো বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পাশাপাশি এনামুল ঘনিষ্ঠ অপর এক ব্যক্তি আলম শেখের বাড়িতে তল্লাশি চালায় তারা। এক্ষেত্রে একাধিক তথ্য পাওয়ার পাশাপাশি মুর্শিদাবাদে বেশ কয়েকটি হোটেলও সিল করেছে তারা।
তবে গরু পাচার মামলায় সিআইডির এহেন তৎপরতাকে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। এক্ষেত্রে সিবিআইয়ের তরফ থেকে অনুব্রত মণ্ডলকে গ্রেফতার এবং একাধিক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করায় রাজ্যের শাসক দল চাপে পড়ে গিয়েছে আর সেই কারণেই সিআইডিকে দিয়ে তারা বিরোধী নেতাদের চাপে ফেলার ষড়যন্ত্র করে চলেছে বলে দাবি বিজেপির।