বাংলা হান্ট ডেস্ক : চোরবাগানের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর এবার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের ভূমিকা নিয়ে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে বৃষ্টির সময় ভিড় সামলানোর দায়িত্বে থাকা অস্থায়ী হোমগার্ডদের প্রসঙ্গ। অভিযোগ, বৃষ্টি থেকে বাঁচতে তাঁরা নিয়ন্ত্রণের দড়ি ছেড়ে সরে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছিল।
হোমগার্ডদের নিয়ে ঠিক কী অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর(Suvendu Adhikari)?
রবিবার ভবানীভবনে সাংবাদিকদের সামনে এই বিষয়টি তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, ঘটনার পর আর দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে না। তাঁর বার্তা, “অ্যাকশন হবেই।”শনিবার মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগানে দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের আবহ তৈরি হয়। বৃষ্টি এবং বিপুল জনসমাগমের মধ্যে ঘটে যাওয়া এই বিপর্যয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, এত মানুষের ভিড় সামলানোর জন্য কী ব্যবস্থা ছিল এবং বিপদের মুহূর্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা কী ভূমিকা পালন করেছিলেন।
রবিবারের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ভিড় নিয়ন্ত্রণের কাজে নিযুক্ত অস্থায়ী হোমগার্ডরা বৃষ্টির সময় নিজেদের জায়গা ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, “ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে ছিলেন অস্থায়ী হোমগার্ডরা। হঠাৎই বৃষ্টি নামে। শুনছি, ভিজে যাচ্ছিলেন বলে তাঁরা নাকি দড়ি ছেড়ে ভিতরে চলে গিয়েছিলেন। তাতেই বিশৃঙ্খলা।” এই পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আবর্জনা বয়ে চলেছি। এবার পদক্ষেপ হবে।”
অস্থায়ী হোমগার্ডদের নিয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের দাবি, তাঁদের নিয়োগ হয়েছিল পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে। তবে নিয়োগের ইতিহাস বা কোনও কর্মীর ভূমিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে তদন্তের ফলাফল সামনে আসা প্রয়োজন। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা নির্ধারণ করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন : দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ উঠতেই অ্যাকশন! একসঙ্গে ৩ নেতাকে বহিষ্কার করল জেলা বিজেপি
এদিকে, চোরবাগানের ঘটনার পর শহরের বড় পুজো মণ্ডপগুলিতে নিরাপত্তার নিয়মেও পরিবর্তন আনার কথা জানিয়েছে রাজ্য। ভিআইপি বা বিশেষ অতিথিদের জন্য আলাদা লাইন রাখার পরিবর্তে সকল দর্শনার্থীকে একই লাইনে প্রবেশ করানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী মণ্ডপে প্রবেশের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। বড় পুজোগুলির নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে বিশেষ দল গঠনের কথাও জানানো হয়েছে।














