বাংলা হান্ট ডেস্ক : চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছিল পুজোর আনন্দে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী বছরের দুর্গাপুজোয় নিরাপত্তার খামতি এড়াতে এখন থেকেই পরিকল্পনা করার কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বুধবার রাতে শ্যামপুরের বেলপুকুর কলেজের মাঠে বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চ থেকে চোরবাগানের দুর্ঘটনা নিয়ে মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী।
কী জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ?
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, আগামী বছরের পুজো শুরু হওয়ার অনেক আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে পশ্চিমবঙ্গে আর এমন মর্মান্তিক পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়। দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করা এবং আহতদের চিকিৎসার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আনন্দের মধ্য বেদনা হয়েছে। চোরবাগানে মানুষের ভুলে বেশ কয়েকজনকে হারাতে হয়েছে। তার তদন্ত হবে। ২৫ জনকে সুস্থ করা হয়েছে। মৃত বাংলার ১৮ জনের মধ্যে ১২ জনের বাড়ি গিয়েছি। ২৩-২৪ তারিখের মধ্যে ৬ জনের বাড়ি যাব। মৃত্যুর কোনও ক্ষতিপূরণ হয় না। তবুও সরকারের কিছু দায়িত্ব থাকে। সে দায়িত্ব পালন করেছি। এই ঘটনা যাতে আর না ঘটে এই অঙ্গীকার নিতে চাই।”
এ দিনের অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক আক্রমণও শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। শ্যামপুরে কয়েক বছর আগে ঘটে যাওয়া অশান্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করেন। কালীপুজো ও দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে অতীতের ঘটনাগুলির উল্লেখ করে তাঁর মন্তব্য, “যারা মা কালীকে প্রিজন ভ্যানে তুলেছিল তাদের প্রিজন ভ্যানে উঠতে হচ্ছে। যাঁরা দুর্গাঠাকুর যারা ভেঙেছিলেন তাদেরকে মা দুর্গা ক্ষমতার অলিন্দ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন।”
এরপর স্থানীয় উন্নয়নের প্রসঙ্গে শ্যামপুরের স্বাস্থ্য পরিষেবায় বড় পরিবর্তনের আশ্বাস দেন শুভেন্দু। বর্তমানে সেখানে ১৪ শয্যার একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সেটিকে ১০০ শয্যার করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। উন্নত চিকিৎসার জন্য আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও এক্স-রে পরিষেবা চালুর কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুন : রেশন কার্ডে মোবাইল নম্বর বদলানো এখন সহজ, জেনে নিন পুরো প্রক্রিয়া
গ্রামাঞ্চলের উন্নয়নে পঞ্চায়েতগুলিকে আরও সক্রিয় হওয়ার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। বিকশিত ভারত ভিবি জিরামজি প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় স্তরে কাজ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রতিটি পঞ্চায়েতে ৫০ লক্ষ টাকার কাজ করুন। এলাকাকে সাজিয়ে তুলুন। ১২৫ দিনের কাজে ৩৭০ রকমের কাজ করা যায়। প্রচুর কাজ করুন।” পাশাপাশি আবাস যোজনার পরবর্তী পর্যায়ে ২৫ লক্ষ বাড়ি তৈরির পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেন তিনি।














