বাংলা হান্ট ডেস্ক : ২০২৬ সালের রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই প্রশাসনিক কাজে নতুন বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বিরোধীদের সঙ্গে সংঘাত নয়, বরং উন্নয়নের স্বার্থে সব দলকে একসঙ্গে নিয়ে চলার কথাই একাধিকবার শোনা গিয়েছে তাঁর মুখে। সেই কথা মতোই এবার দুর্গাপুরের প্রশাসনিক বৈঠকে তৃণমূল বিধায়কদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু, আমন্ত্রিতদের কেউই বৈঠকে উপস্থিত না থাকায় নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
কী জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)?
বৃহস্পতিবার পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং বীরভূম- পাঁচ জেলা নিয়ে একটি প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই বৈঠকে সাত জন তৃণমূল বিধায়ককে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁদের কেউই সভায় উপস্থিত হননি। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সাতজন তৃণমূল বিধায়ককে আমরা ডেকেছিলাম। মুরারইয়ের বিধায়ক আমাকে মেসেজ করে জানিয়েছিলেন আমি আসব। কিন্তু আসেননি।”
তৃণমূল বিধায়কদের অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি আগের সরকারের ভূমিকাও তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। বিরোধী দলের প্রতি আচরণ নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “আগে ৫ বছর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের ডাকতেন না। বর্তমান বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী ওঁদের ডেকেছেন।”
একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, উন্নয়নের ইস্যুতে তৃণমূল কি সহযোগিতার রাজনীতিতে আগ্রহী, নাকি বিরোধিতার পথেই থাকতে চাইছে। এই বিষয়ে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ জানান, “এটা সম্পূর্ণ দলের সিদ্ধান্ত। যে একটা অংশ ধরনা দেবে কলকাতায় বিধানসভায়। আরেকটা অংশ তাঁর তাঁর এলাকায় বা অন্য কোনও এলাকায় দলের নির্দেশ মতো কর্তব্য পালন করছিলেন।” দলের কর্মসূচির কারণেই বিধায়কদের বৈঠকে অনুপস্থিত থাকতে হয়েছে বলে দাবি তৃণমূলের।
দুর্গাপুরের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে পুরভোট নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “দুর্গাপুরের মানুষকে আমি আশ্বস্ত করতে চাই দুর্গাপুজো বা কালীপুজোর পরে যে কোনও সময় নির্বাচন করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বা রাজ্য সরকার সাহায্য করবে রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে।” শুধু তাই নয়, শিল্প এবং কর্মসংস্থান নিয়েও কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি।

আরও পড়ুন :‘৩ বারের সাংসদ কেন..’, অভিষেকের মন্তব্য মামলায় ভর্ৎসনা হাইকোর্টের বিচারপতির
তৃণমূলকে নিশানা করে শুভেন্দু বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকার একসঙ্গে মিলে কীভাবে এখানে শিল্পে জোয়ার আনতে পারি, বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে পারি, এটাও আছে। তবে, আমরা হাততালি কুড়ানোর জন্য দেউচা পাচামির মতো ফ্রড কথাবার্তা বলি না বলবও না।” দুর্গাপুরের প্রশাসনিক বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও একবার স্পষ্ট করে দিল, রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পরে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত এখন তীব্র।













