বাংলা হান্ট ডেস্ক: এবার বড় ধাক্কা পেলেন পর্তুগালের কিংবদন্তি ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo)। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে, জাতীয় দলের (Portugal) ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ায় পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন তথা FPF তাঁকে ৩০ দিনের জন্য সাসপেন্ড করেছে। মূলত, ফেডারেশনের শৃঙ্খলা কমিটি ৪১ বছর বয়সি স্ট্রাইকারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলি সম্পূর্ণরূপে বহাল রেখেছে। এর পাশাপাশি, রোনাল্ডোকে ২৫৫ ইউরো জরিমানাও করা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে, এই পুরো বিষয়টি পর্তুগালের জাতীয় দলে রোনাল্ডোর ভূমিকা সংক্রান্ত একটি বিবাদের সঙ্গে সম্পর্কিত। রিপোর্ট অনুসারে, দলে তাঁর দায়িত্ব এবং খেলার সুযোগ নিয়ে ক্রিশ্চিয়ানো ও কোচ হোর্হে জেসুসের (Jorge Jesus)
মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। এর পরে, ডেনমার্কের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে রোনাল্ডো কোপেনহেগেনে দলের শিবির ছেড়ে চলে যান। এই ঘটনার পর তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
পর্তুগালের জাতীয় দল থেকে সাসপেন্ড হলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo):
দলে নিজের ভূমিকা নিয়ে কোচের সঙ্গে রোনাল্ডোর মতবিরোধ: জানিয়ে রাখি যে, দলে তাঁর ভূমিকা নিয়ে মতবিরোধের কারণেই রোনাল্ডো অসন্তুষ্ট ছিলেন বলে জানা গেছে। রিপোর্ট অনুসারে, এই কিংবদন্তি স্ট্রাইকার অভিযোগ করেছিলেন যে, কোচ হোর্হে জেসুস দলে তাঁর ভূমিকা নিয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ২ বার ভঙ্গ করেছেন। নরওয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচে রোনাল্ডোকে খেলতে দেওয়া হয়নি। তিনি পুরো ম্যাচ জুড়ে বদলি খেলোয়াড় হিসাবে বেঞ্চে ছিলেন। এরপরে কোচের সঙ্গে তাঁর মতপার্থক্য বৃদ্ধির খবর সামনে আসে। তবে জেসুস রোনাল্ডোর সঙ্গে কোনও সমঝোতার কথা অস্বীকার করেন। এদিকে সেন বিতর্ক সত্ত্বেও পর্তুগিজ দল জয়লাভ করে। যার পরে কোচ রোনাল্ডোর ফিরে আসার সম্ভাবনা নাকচ করেননি।

ক্ষমা চেয়েছেন রোনাল্ডো: এদিকে, পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের শৃঙ্খলা কমিটি রোনাল্ডোকে তাদের নিয়মাবলির ধারা ১৬০ (১)-এর অধীনে ইচ্ছাকৃতভাবে নিয়ম লঙ্ঘনের জন্য দোষী সাব্যস্ত করেছে। অভিযোগগুলিকে সম্পূর্ণ ন্যায্য মনে করে ফেডারেশন সাময়িক বরখাস্ত ও জরিমানার সিদ্ধান্ত জারি করেছে।
এই আবহে সামগ্রিক বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে রোনাল্ডো তাঁর আচরণের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে, নরওয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচের পর অভিবাদন না জানানো এবং সতীর্থদের ছেড়ে ক্যাম্প ত্যাগ করাটা একটি ভুল ছিল। তিনি আরও বলেন যে, ফুটবলে নিয়ম সবার জন্য সমান এবং তিনি তাঁর কৃতকর্মের জন্য শাস্তি মেনে নিচ্ছেন। এমতাবস্থায়, সাজা নির্ধারণের সময় রোনাল্ডোর ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। ফেডারেশন তাঁর অনুশোচনা এবং পরবর্তী আচরণকে সাজা কমানোর কারণ হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। তবে, দলের অধিনায়ক হিসাবে রোনাল্ডোর কাছ থেকে আরও বেশি দায়িত্ব প্রত্যাশিত ছিল।
আরও পড়ুন: সহজ হবে না লড়াই! নিউজিল্যান্ডে পৌঁছনোর পরেই ‘ওয়ার্নিং’ পেলেন বৈভব সূর্যবংশী
রোনাল্ডো কী নভেম্বরে খেলতে পারবেন: উল্লেখ্য যে, ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞার পর পর্তুগালের পরবর্তী আন্তর্জাতিক সিরিজে রোনাল্ডোর প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। AFP-র একে রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর এই নিষেধাজ্ঞা ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়েছে। যেটি অনুযায়ী, তিনি অক্টোবরের শেষ নাগাদ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ করতে পারবেন। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, পর্তুগাল আগামী ১৪ নভেম্বর ডেনমার্কের বিরুদ্ধে খেলবে এবং আগামী ১৭ নভেম্বর ওয়েলসের বিরুদ্ধে খেলবে। এই ম্যাচগুলির জন্য রোনাল্ডোর উপলব্ধ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, জাতীয় দলে তাঁর ফেরার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত টিম ম্যানেজমেন্ট ও প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।
আরও পড়ুন: ‘এই দুঃখের কোনও ক্ষতিপূরণ হয় না’, চোরবাগানে মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী
এদিকে, পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনসাও রোনাল্ডোর দলে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো পর্তুগালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁর দখলে অনেক রেকর্ড রয়েছে। সমগ্র বিশ্বজুড়ে তাঁর কোটি কোটি অনুরাগী রয়েছেন। অপরদিকে, রোনাল্ডোর অনুপস্থিতি সত্ত্বেও পর্তুগাল তাদের নেশন্স লিগের চারটি ম্যাচেই জয়লাভ করে কোয়ার্টার-ফাইনালে পৌঁছেছে। তবে, এই বিতর্কের পর রোনাল্ডো ও কোচ হোর্হে জেসুসের সম্পর্ক কোন দিকে এগোয় এবং আগামী নভেম্বরে এই অভিজ্ঞ স্ট্রাইকারকে আবারও জাতীয় দলের জার্সিতে দেখা যায় কি না সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন অনুরাগীরা।














