চোখের পলকে ধ্বংস হবে শত্রুর ট্যাঙ্ক! বছরের শুরুতেই MPATGM-এর সফল পরীক্ষা DRDO-র

Published on:

Published on:

Defence Research and Development Organisation successfully tested MPATGM.
Follow

দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ছুঁল ভারত। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (Defence Research and Development Organisation) একটি চলন্ত ট্যাঙ্ক থেকে তৃতীয় প্রজন্মের ম্যান পোর্টেবল অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল (MPATGM)-এর সফল উড়ান পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। ২০২৬ সালের ১১ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রের অহিল্যা নগরের কে কে রেঞ্জে এই পরীক্ষা চালানো হয়। পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রটি নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে এবং সম্পূর্ণ সাফল্যের সঙ্গে নির্ধারিত লক্ষ্য ধ্বংস করে, যা ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ক্ষেত্রে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বছরের শুরুতেই বড় সাফল্য DRDO(Defence Research and Development Organisation)-র

ডিআরডিও সূত্রে জানা গিয়েছে, এই এমপিএটিজিএম অত্যাধুনিক ‘ফায়ার অ্যান্ড ফরগেট’ প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে তৈরি। অর্থাৎ একবার উৎক্ষেপণের পর ক্ষেপণাস্ত্রটি নিজেই লক্ষ্য চিহ্নিত করে আঘাত হানতে সক্ষম। পাশাপাশি এতে রয়েছে ‘টপ অ্যাটাক’ ক্ষমতা, যার মাধ্যমে শত্রু ট্যাঙ্কের উপরিভাগে আঘাত করে সেগুলিকে ধ্বংস করা যায়। পরীক্ষার সময় চলমান ট্যাঙ্ক প্ল্যাটফর্ম থেকে উৎক্ষেপণ করা হলেও ক্ষেপণাস্ত্রটির গতিপথ, স্থিতিশীলতা ও লক্ষ্যভেদে কোনও ত্রুটি ধরা পড়েনি।

আরও পড়ুন:মা-বাবার দায়িত্ব না নিলে শাস্তি! রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতন থেকে ১০% কেটে নেওয়ার সিদ্ধান্ত সরকারের

ডিআরডিও জানিয়েছে, এমপিএটিজিএম সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি। এতে রয়েছে উন্নতমানের ইমেজিং ইনফ্রারেড সিকার, সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, আধুনিক ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম, ট্যান্ডেম ওয়ারহেড এবং অত্যাধুনিক সাইটিং সিস্টেম। এই ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়নে ডিআরডিও-র একাধিক পরীক্ষাগার যৌথভাবে কাজ করেছে। পরীক্ষার সময় যোধপুরের প্রতিরক্ষা পরীক্ষাগার দ্বারা নির্মিত একটি তাপীয় লক্ষ্যবস্তু ব্যবস্থাও ব্যবহার করা হয়, যা ক্ষেপণাস্ত্রের নির্ভুলতা যাচাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

ডিআরডিওর দাবি, এমপিএটিজিএম দিন ও রাত—উভয় সময়েই কার্যকরভাবে যুদ্ধ পরিচালনা করতে সক্ষম এবং আধুনিক প্রধান যুদ্ধ ট্যাঙ্ক ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রয়োজনে ট্রাইপড থেকে অথবা সামরিক যানবাহন থেকেও উৎক্ষেপণ করা যাবে। প্রকল্পটির উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ উৎপাদনে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেড (BDL) এবং ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL) গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে যুক্ত রয়েছে।

Defence Research and Development Organisation successfully tested MPATGM.

আরও পড়ুন: পথকুকুরের কামড়ে মৃত্যু হলে ক্ষতিপূরণ দেবে রাজ্য সরকার, স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে কুকুরপ্রেমীদেরও কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

এই সফল পরীক্ষার জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং ডিআরডিও, সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী দল এবং শিল্প সংস্থাগুলিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি এই সাফল্যকে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ অভিযানের পথে একটি বড় পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছেন। ডিআরডিও প্রধান ও প্রতিরক্ষা গবেষণা সচিব ডঃ সমীর ভি. কামাত জানিয়েছেন, সমস্ত পরীক্ষাই সফল হয়েছে এবং এমপিএটিজিএম এখন ভারতীয় সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রস্তুত। তাঁর কথায়, এই ক্ষেপণাস্ত্র ভারতীয় সেনার ট্যাঙ্ক-বিধ্বংসী ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে এবং দেশের প্রতিরক্ষা শক্তিকে আরও মজবুত করবে।