৪ দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের নির্দেশ ট্রাম্পের, ভেনেজুয়েলায় নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ভারতের এই বন্ধু রাষ্ট্র

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভেনেজুয়েলা কার্যত আমেরিকার অধীনে চলে যাওয়ার পর সে দেশের বৈদেশিক সম্পর্কের দিকনির্দেশও এবার নির্ধারণ করে দিল ট্রাম্প (Donald Trump) প্রশাসন। স্পষ্ট বার্তায় জানানো হয়েছে, কে ভেনেজুয়েলার বন্ধু আর কে শত্রু—তা ঠিক করবে এখন থেকে ওয়াশিংটনই। মার্কিন নির্দেশ অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার আর চারটি দেশের সঙ্গে কোনও কূটনৈতিক বা বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখতে পারবে না। সেই দেশগুলি হল চিন, রাশিয়া, ইরান ও কিউবা। অর্থাৎ আমেরিকার শত্রু রাষ্ট্রগুলিকেই এখন থেকে নিজেদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করতে হবে ভেনেজুয়েলাকে।

ভেনেজুয়েলাকে ৪ দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বে নিষেধাজ্ঞা ট্রাম্পের (Donald Trump)

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের উপর একমাত্র অধিকার থাকবে আমেরিকার। তেল বিক্রির যাবতীয় সিদ্ধান্ত নিতে হবে ওয়াশিংটনের মাধ্যমে। অতীতে যেসব দেশের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক ও তেল বাণিজ্যের সম্পর্ক ছিল, সেই সম্পর্ক ছিন্ন করাই হবে নতুন সরকারের শর্ত। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবিসি-র এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চিন, রাশিয়া, ইরান ও কিউবার সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন না করলে ভেনেজুয়েলাকে তেল উৎপাদন বাড়ানোর অনুমতিও দেবে না আমেরিকা। যদিও এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর হোয়াইট হাউসের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: পদ্মাপারের উত্তাপ, সীমান্তে কড়া নজর, হলদিয়ায় দ্রুত হামলার নৌসেনা ঘাঁটির ছাড়পত্র কেন্দ্রের

উল্লেখযোগ্যভাবে, দীর্ঘদিন ধরে চিন ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিল ভেনেজুয়েলা। এক সময় ভেনেজুয়েলায় উৎপাদিত মোট তেলের প্রায় ৭০ শতাংশই রফতানি হত চিনে। পাশাপাশি এই চার দেশের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত একাধিক চুক্তি ছিল। চিন ও রাশিয়ার বিপুল বিনিয়োগে সে দেশের জ্বালানি ও পরিকাঠামো ক্ষেত্র গড়ে উঠেছিল। এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিনের মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার নির্দেশ ভেনেজুয়েলার বিদেশনীতিতে এক আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে সে দেশের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেলের ভাণ্ডার রয়েছে ভেনেজুয়েলায়। সেখানে প্রায় ৩০ হাজার কোটি ব্যারেল তেল মজুত রয়েছে বলে সরকারি তথ্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিপুল তেল সম্পদের দিকেই প্রথম থেকেই নজর ছিল আমেরিকার। তবে নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতায় থাকাকালীন সেই লক্ষ্য পূরণ সম্ভব হয়নি। মাদক পাচারের অভিযোগ তুলে মাদুরোকে সরাতেই সামরিক অভিযানে নামে আমেরিকা। অভিযানের পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ক্ষমতায় বসানো হয় অন্তর্বর্তী সরকার।

Donald Trump restricted Venezuela being friendly with these 4 countries.

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ইস্যুতে মন্তব্য, FIR খারিজ চেয়ে হাই কোর্টে বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকার

এর মধ্যেই ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার আমেরিকাকে ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল ‘উচ্চমানের’ তেল সরবরাহ করবে, যা বিক্রি হবে বাজারদরে। ট্রাম্পের কথায়, ওই তেল বিক্রির অর্থ তাঁর প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং সেই অর্থ আমেরিকা ও ভেনেজুয়েলার জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করা হবে। তবে বাস্তবে এই সিদ্ধান্ত ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীন নীতিনির্ধারণের উপর কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েই এখন আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।